গাজীর এমপি পদ নিয়ে ইসির ব্যাখ্যা
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:১২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- / 29
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও শুধু এ কারণেই তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল কোনো সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করলেই তার আসন শূন্য হয়ে যায় না।
এ বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। এরপর কমিশন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনের আলোকে সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি জানান, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দলত্যাগ বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে দলীয় বহিষ্কারের কারণে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে—এমন কোনো স্পষ্ট বিধান নেই।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদ সদস্য বিরোধ নির্ধারণ আইন অনুযায়ী, কোনো সদস্যের যোগ্যতা বা আসন নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে স্পিকার বিষয়টি ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। এরপর কমিশন শুনানি শেষে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে এবং সেই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে ঘটনাটিকে ‘নৈতিক স্খলন’ হিসেবে উল্লেখ করে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়।
এর আগে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলামও বলেছিলেন, দল থেকে বহিষ্কারের চিঠি পেলেই এমপি পদ বাতিল হয় না; আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

































