মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা
ইসরায়েলে ইরান ও হুথিদের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:০৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
- / 77
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি আগ্রাসনের ও হামলার কড়া জবাবে এবার সরাসরি ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। তবে কেবল ইরানই নয়, তাদের পাশাপাশি ইয়েমেনের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরাও একই সময়ে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলের দিকে অন্তত ১১টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। গত এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলের ওপর ইরানের এটিই প্রথম সরাসরি ও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। অবশ্য তেল আবিব দাবি করেছে, তাদের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ বা সব কটি ক্ষেপণাস্ত্রই মাঝআকাশে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
ইরানের এই হামলার ঠিক একই সময়ে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি গোষ্ঠীও ইসরায়েলের সীমানা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে বলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। হুথিরা দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রধান মিত্র বা ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অংশ হিসেবে পরিচিত এবং অতীতেও তারা একাধিকবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইরানের এই নজিরবিহীন হামলার পরপরই পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি তেল আবিব। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের হামলার পর তারা পশ্চিম ও মধ্য ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের এই বিধ্বংসী পাল্টা হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরান, ইসফাহান ও তাবরিজসহ আরও কয়েকটি প্রধান প্রধান শহরে বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তবে ইসরায়েল স্পষ্ট করে বলেছে, তাদের বিমান হামলার মূল লক্ষ্য ছিল কেবল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও সামরিক অবকাঠামো; দেশের কোনো বেসামরিক বা জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই মারাত্মক সংঘাত এমন এক জটিল সময়ে ঘটছে যখন পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং পারমাণবিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউজের এই আহ্বানের মধ্যেই ইরান কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল যদি তাদের ওপর পুনরায় হামলা চালিয়ে যাওয়ার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে তারা এর চেয়েও আরও কঠোর ও বিধ্বংসী জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর তাদের বিবৃতিতে জানায়, উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলায় ধারাবাহিক গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানের অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনী ওই নির্দিষ্ট এলাকার সন্ত্রাসীদের একাধিক আস্তানা লক্ষ্য করে এই আকস্মিক ও চিরুনি অভিযান চালায়।
সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, “গত ৭২ ঘণ্টায় অত্যন্ত তীব্র ও মুখোমুখি গোলাগুলির পর ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর অন্তত ২৭ জন সক্রিয় সন্ত্রাসীকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে দেশের বীর নিরাপত্তা বাহিনী।”
সফল এই বিশেষ অভিযান শেষে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ওই সব আস্তানা ও ঘটনাস্থল তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বলেও আইএসপিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পুরো এলাকাটি বর্তমানে সেনাবাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাকি সন্ত্রাসীদের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে বলে সামরিক সূত্রে জানা গেছে।




































