ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রয়টার্সের বিশ্লেষণ

ইরান যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
  • / 146

তৃতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে চতুর্থ সপ্তাহের পথে ইরান যুদ্ধ। ক্রমেই আরোপিত এই যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য দ্রুত বাড়ছে। মিত্রদের থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। আর যেই মাঠপর্যায়ে অপারেশন এড়াতে চেয়েছিলেন, উপায়ান্তর না দেখে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার মেরিন পাঠিয়ে সেই প্রস্তুতিও সারতে হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার সময় ‘অপ্রয়োজনীয়’ সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। অথচ এখন এমন এক সংঘাতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছেন, যেখানে তার কোনও নিয়ন্ত্রণে নেই। যুদ্ধ শেষ করার কোনও সুস্পষ্ট কৌশলের অনুপস্থিতি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার লিগ্যাসিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই অযাচিত যুদ্ধের ফলে তার দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যতও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইরানের অনেক শীর্ষ নেতা লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় নিহত হয়েছে। এ ছাড়া তাদের নৌবাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের বেশিরভাগই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউস এসব ঢালাও সাফল্যের দাবি করলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা খুব একটা কমেনি। কারণ শনিবার (২১ মার্চ) দেশটি নিজেদের ভূখণ্ড থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অ্যাংলো-মার্কিন ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়ার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। আর হরমুজ প্রণালিও কার্যত ইরানি নৌবাহিনীর দখলে।

ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা

গত সপ্তাহে কূটনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিকসহ সব দিক থেকেই ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। হোয়াইট হাউসের আরেক কর্মকর্তার মতে, ন্যাটো মিত্র ও অন্যান্য বিদেশি অংশীদারদের হরমুজ প্রণালি সুরক্ষায় নৌবাহিনী পাঠাতে অনীহা ট্রাম্পকে বিস্মিত করেছে। অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে কথা বলার জন্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এই তথ্য জানান।

প্রেসিডেন্টের মুখ বাঁচাতে হোয়াইট হাউসের কিছু উপদেষ্টা ইরান যুদ্ধ থেকে দ্রুত একটি ‘এক্সিট’ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তারা সামরিক অভিযানের পরিধি সীমিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এতে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করা সম্ভব হয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মিত্রদের অনীহা শুধু একটি অননুমোদিত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নয়। বরং ক্ষমতায় ফেরার পর গত ১৪ মাস ধরে ঐতিহ্যগত মার্কিন জোটগুলোকে অবমূল্যায়নের প্রতিক্রিয়াও।

ইসরায়েলের সঙ্গে মতপার্থক্যও সামনে আসতে শুরু করেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলার বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন না। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরিতে এখন ট্রাম্প এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি কোন পথ বেছে নেবেন, তা স্পষ্ট নয়।’

ভুল হিসাব

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের পর প্রশাসন এখন বাস্তবতা বুঝতে পারছে। চলমান সংঘাত এবং এর পরিণতি আগেই আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা উচিত ছিল বলে মত ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারা।

বিশেষ করে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলো আগে থেকে অনুমান করেছিলেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। কারণ এগুলো মোকাবিলায় তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বাস বলেন, ‘তারা সম্ভাব্য পরিস্থিতিগুলো যথেষ্ট বিবেচনা করেনি। যেখানে সংঘাত পরিকল্পনা অনুযায়ী না-ও চলতে পারে।’

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রয়টার্সের বিশ্লেষণ

ইরান যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প

সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

তৃতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে চতুর্থ সপ্তাহের পথে ইরান যুদ্ধ। ক্রমেই আরোপিত এই যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য দ্রুত বাড়ছে। মিত্রদের থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। আর যেই মাঠপর্যায়ে অপারেশন এড়াতে চেয়েছিলেন, উপায়ান্তর না দেখে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার মেরিন পাঠিয়ে সেই প্রস্তুতিও সারতে হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার সময় ‘অপ্রয়োজনীয়’ সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। অথচ এখন এমন এক সংঘাতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছেন, যেখানে তার কোনও নিয়ন্ত্রণে নেই। যুদ্ধ শেষ করার কোনও সুস্পষ্ট কৌশলের অনুপস্থিতি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার লিগ্যাসিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই অযাচিত যুদ্ধের ফলে তার দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যতও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইরানের অনেক শীর্ষ নেতা লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় নিহত হয়েছে। এ ছাড়া তাদের নৌবাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের বেশিরভাগই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউস এসব ঢালাও সাফল্যের দাবি করলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা খুব একটা কমেনি। কারণ শনিবার (২১ মার্চ) দেশটি নিজেদের ভূখণ্ড থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অ্যাংলো-মার্কিন ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়ার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। আর হরমুজ প্রণালিও কার্যত ইরানি নৌবাহিনীর দখলে।

ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা

গত সপ্তাহে কূটনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিকসহ সব দিক থেকেই ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। হোয়াইট হাউসের আরেক কর্মকর্তার মতে, ন্যাটো মিত্র ও অন্যান্য বিদেশি অংশীদারদের হরমুজ প্রণালি সুরক্ষায় নৌবাহিনী পাঠাতে অনীহা ট্রাম্পকে বিস্মিত করেছে। অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে কথা বলার জন্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এই তথ্য জানান।

প্রেসিডেন্টের মুখ বাঁচাতে হোয়াইট হাউসের কিছু উপদেষ্টা ইরান যুদ্ধ থেকে দ্রুত একটি ‘এক্সিট’ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তারা সামরিক অভিযানের পরিধি সীমিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এতে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করা সম্ভব হয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মিত্রদের অনীহা শুধু একটি অননুমোদিত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নয়। বরং ক্ষমতায় ফেরার পর গত ১৪ মাস ধরে ঐতিহ্যগত মার্কিন জোটগুলোকে অবমূল্যায়নের প্রতিক্রিয়াও।

ইসরায়েলের সঙ্গে মতপার্থক্যও সামনে আসতে শুরু করেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলার বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন না। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরিতে এখন ট্রাম্প এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি কোন পথ বেছে নেবেন, তা স্পষ্ট নয়।’

ভুল হিসাব

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের পর প্রশাসন এখন বাস্তবতা বুঝতে পারছে। চলমান সংঘাত এবং এর পরিণতি আগেই আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা উচিত ছিল বলে মত ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারা।

বিশেষ করে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলো আগে থেকে অনুমান করেছিলেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। কারণ এগুলো মোকাবিলায় তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বাস বলেন, ‘তারা সম্ভাব্য পরিস্থিতিগুলো যথেষ্ট বিবেচনা করেনি। যেখানে সংঘাত পরিকল্পনা অনুযায়ী না-ও চলতে পারে।’