অবশেষে সেন্টমার্টিনের পথে পর্যটকবাহী জাহাজ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০৫:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 49
দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন নৌপথে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে ‘এমভি বারো আউলিয়া’ নামের একটি জাহাজ দ্বীপটির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্যটকদের জন্য আবারও সচল হলো দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন।
জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও অনুমোদন সম্পন্ন করেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ চালু হলেও প্রশাসনিক ও অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতায় এত দিন জাহাজ চলাচল শুরু করা যায়নি। পরে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুমোদন এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মতি পাওয়ায় নৌপথটি সচল হয়েছে।
কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে পর্যটকদের নিয়ে জাহাজগুলো সেন্টমার্টিনে যাতায়াত করবে। অনুমোদন পেয়েছে তিনটি জাহাজ; এমভি বারো আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ। এগুলোর সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বারো আউলিয়া সকাল ৭টায়, এমভি কর্ণফুলি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। বিকেলে নির্ধারিত সময়ে জাহাজগুলো পর্যটকদের নিয়ে ফিরে আসবে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ ও সেখানে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিটও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পর্যটন চালু হলেও দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও বিক্রি এবং প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, সামুদ্রিক কাছিমসহ দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতিসাধন করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ।
দীর্ঘ বিরতির পর জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সেন্টমার্টিনের আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী আবদুর রহিম জিহাদী জানান, দ্বীপে দেড় শতাধিক আবাসিক হোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে। পর্যটকদের বরণ করতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ঢাকা থেকে প্রথম দিনের যাত্রায় অংশ নেওয়া পর্যটক হোসাইন জামিল বলেন, বড় একটি দল নিয়ে প্রথম ট্যুরে সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন তিনি। সাগরের নীল জলরাশি ও প্রবালদ্বীপে রাত্রিযাপনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বেশ রোমাঞ্চিত।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান জানান, নিয়ম মেনে টিকিট সংগ্রহ করা পর্যটকদের নিয়ে এমভি বারো আউলিয়া যাত্রা করেছে। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক বিষয় তদারকি করছে। পর্যটকদের সরকারি নির্দেশনা মেনে দ্বীপ ভ্রমণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পরিবেশ সংরক্ষণের বিধিনিষেধ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ও গতি ফিরবে।






























