শ্যাডো রিপোর্টে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান
সিডও সনদের দুটি ধারা প্রত্যাহারের দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 11
নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও)-এর ধারা ২ এবং ১৬(১)(গ)-এর ওপর বাংলাদেশের সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে বিষয়টি আসন্ন সিডও শ্যাডো রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন নারী অধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে সিটিজেনস ইনিশিয়েটিভ ফর সিডও বাংলাদেশ (সিআইসি-বিডি) প্ল্যাটফর্মের সদস্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত ‘সিডও শ্যাডো রিপোর্ট প্রণয়ন’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের জমা দেওয়া সিডও প্রতিবেদনের ওপর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ফেরদৌসী সুলতানা বেগম।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন উইমেন ফর উইমেনের সভাপতি জাকিয়া কে. হাসান, স্টেপস স্টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার ও চন্দন লাহিড়ী, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সালমা আলী, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সিউতি সবুর, উইমেন উইথ ডিসঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি, সাইটস সেভারসের অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর সোহেল রানা, নাগরিক উদ্যোগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাদিরা পারভীন, সেফ গার্ড রিসোর্স অ্যান্ড সাপোর্ট হাবের কান্ট্রি লিড কাশফিয়া ফিরোজ, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি প্রোগ্রাম লিড মরিয়ম নেছা, নিজেরা করির কর্মসূচি সংগঠক নিশাত তাসনিম, ব্র্যাকের ফাতেমা ফেরদৌসী ও অদ্রিতা ইশনা, ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ অব বাংলাদেশের আইনজীবী সাবিনা শিপ্রা ও পূরবী তালুকদার, কর্মজীবী নারীর কো-অর্ডিনেটর কাজী গুলশান আরা দিশা, গণসাক্ষরতা অভিযানের সিজুল ইসলাম এবং বহ্নিশিখার নূরজাহানসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, এবারের শ্যাডো রিপোর্টে সিডও সনদের ধারা ২ ও ১৬(১)(গ)-এর ওপর সংরক্ষণ প্রত্যাহারের দাবি ছাড়াও নারীবান্ধব আইন বাস্তবায়নের বাস্তব চিত্র, বৈষম্যমূলক ও পারিবারিক আইন সংস্কার, সামাজিক সুরক্ষা, নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন, পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক রীতি, ধর্মীয় মৌলবাদের প্রভাব, শিশুশ্রম, মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন এবং মব ভায়োলেন্সের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, প্রতি চার বছর পরপর নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সিডও অলটারনেটিভ ও শ্যাডো রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়। এবারের প্রতিবেদন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ২০২২ সালে নাগরিক সমাজের জমা দেওয়া অলটারনেটিভ রিপোর্ট এবং ২০২৫ সালে সরকারের দাখিল করা প্রতিবেদনের আলোকে বর্তমান বাস্তবতা মূল্যায়ন করা জরুরি।
তিনি বলেন, দেশে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পথে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় উগ্রবাদ, নারীবিদ্বেষী বক্তব্য, পরিবেশ ও জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সিডও সনদের ধারা ২ ও ১৬(১)(গ)-এর সংরক্ষণ প্রত্যাহারের বিষয়টি এবারের প্রতিবেদনে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
স্বাগত বক্তব্যে মালেকা বানু বলেন, জাতিসংঘের সিডও কমিটির আসন্ন পর্যালোচনাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ একটি সমন্বিত শ্যাডো রিপোর্ট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে দেশের নারীর অধিকার ও বৈষম্যসংক্রান্ত বাস্তব চিত্র আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা যায়।
মতবিনিময় সভায় স্টেপস স্টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট, উইমেন ফর উইমেন, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, উইমেন উইথ ডিসঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, সাইটস সেভারস, নাগরিক উদ্যোগ, সেফ গার্ড রিসোর্স অ্যান্ড সাপোর্ট হাব, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, নিজেরা করি, ব্র্যাক, ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ অব বাংলাদেশ, কর্মজীবী নারী, গণসাক্ষরতা অভিযান, ওয়ার্ল্ড ভিশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম, দীপ্ত ফাউন্ডেশন, বি-স্ক্যান, ব্লাস্ট, বহ্নিশিখা এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিনিধিসহ প্রায় ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।






























