ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অনুবাদের মাধ্যমে

বিশ্বপাঠকের হৃদয়ে নজরুলের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 102

বিশ্বপাঠকের হৃদয়ে নজরুলের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে শুধু বাঙালির কবি হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর সাহিত্য ও দর্শন বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাহিত্যিক ও অনুবাদকরা। তারা বলেন, নজরুলের অম্লান চেতনা অন্য ভাষার পাঠকদের কাছেও পৌঁছে দিতে মানসম্মত ও বস্তুনিষ্ঠ অনুবাদের বিকল্প নেই।

সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজিত সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিকেল ৪টায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। ‘নজরুল সাহিত্য অনুবাদের অভিজ্ঞতা ও অনুধ্যান’ শীর্ষক বক্তৃতা দেন অনুবাদক ও শিক্ষক আলমগীর মোহাম্মদ। আলোচনায় অংশ নেন সাহিত্যিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন এবং নজরুল গবেষক ও অনুবাদক ইরশাদ আহমেদ শাহীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, নজরুল বাংলাদেশের জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর সাহিত্য শুধু বাংলা ভাষা ও বাঙালির গর্ব নয়, এটি বিশ্বসভ্যতারও সম্পদ। তাই অনুবাদের মাধ্যমে নজরুলের সাহিত্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা জাতীয় দায়িত্ব।

আলমগীর মোহাম্মদ বলেন, কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, চিঠিপত্র ও অভিভাষণ; সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখাতেই নজরুল তাঁর স্বতন্ত্র প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। সাম্য, মানবতা, বিদ্রোহ ও প্রেম তাঁর সৃষ্টির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ।

তিনি বলেন, নজরুলের কালজয়ী সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো মানসম্মত ও বস্তুনিষ্ঠ অনুবাদ। তাঁর সমসাময়িক অনেক বিশ্বসাহিত্যিক বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও নজরুল তুলনামূলকভাবে এখনও উপেক্ষিত। তাঁর সাহিত্যকর্মের গভীরতা ও বৈশ্বিক আবেদন বিবেচনায় আন্তর্জাতিক পরিসরে নজরুলের পরিচিতি আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।

আলোচকরা বলেন, নজরুলের রচনায় মানবিক আন্তর্জাতিকতার শক্তিশালী অঙ্গীকার রয়েছে। অথচ যথাযথ উদ্যোগের অভাবে তাঁর সৃষ্টিকর্ম এখনও বিশ্বপরিসরে প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। নজরুলের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আরও গবেষণার পাশাপাশি ইংরেজিসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় তাঁর রচনা অনুবাদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

তারা বলেন, কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের কমিটির মাধ্যমে নজরুলকে বিশ্ববাসীর কাছে নতুনভাবে তুলে ধরার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। অনুবাদকদের দায়িত্ব হলো নজরুলের অম্লান চেতনাকে অন্য ভাষার পাঠকদের হৃদয়েও জ্বেলে দেওয়া।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, নজরুল-বর্ষে নজরুলবিষয়ক গবেষণা ও অনুবাদকর্মের দিকে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেমিনারে বাংলাদেশে অনূদিত নজরুল রচনার মান, অনুবাদ কৌশল ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে নজরুলের রচনা অনুবাদের পরিধি ও মান আরও বিস্তৃত হবে এবং বিশ্বপাঠক তাঁর সাহিত্যকর্মের গভীর পরিচয় লাভ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী টিটো মুন্সী। নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফেরদৌস আরা, শহীদ কবির পলাশ ও শাহীনুর রেজা।

অনুষ্ঠানে যন্ত্রসংগীতে ছিলেন কাজী মো. ইমতিয়াজ সুলতান (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি), মো. নূর এ আলম সজীব (কী-বোর্ড), বিদ্যুৎ রায় (অক্টোপ্যাড) এবং মো. মনোয়ার হোসেন (গিটার)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মাহবুবা রহমান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অনুবাদের মাধ্যমে

বিশ্বপাঠকের হৃদয়ে নজরুলের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে শুধু বাঙালির কবি হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর সাহিত্য ও দর্শন বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাহিত্যিক ও অনুবাদকরা। তারা বলেন, নজরুলের অম্লান চেতনা অন্য ভাষার পাঠকদের কাছেও পৌঁছে দিতে মানসম্মত ও বস্তুনিষ্ঠ অনুবাদের বিকল্প নেই।

সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজিত সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিকেল ৪টায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। ‘নজরুল সাহিত্য অনুবাদের অভিজ্ঞতা ও অনুধ্যান’ শীর্ষক বক্তৃতা দেন অনুবাদক ও শিক্ষক আলমগীর মোহাম্মদ। আলোচনায় অংশ নেন সাহিত্যিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন এবং নজরুল গবেষক ও অনুবাদক ইরশাদ আহমেদ শাহীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, নজরুল বাংলাদেশের জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর সাহিত্য শুধু বাংলা ভাষা ও বাঙালির গর্ব নয়, এটি বিশ্বসভ্যতারও সম্পদ। তাই অনুবাদের মাধ্যমে নজরুলের সাহিত্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা জাতীয় দায়িত্ব।

আলমগীর মোহাম্মদ বলেন, কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, চিঠিপত্র ও অভিভাষণ; সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখাতেই নজরুল তাঁর স্বতন্ত্র প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। সাম্য, মানবতা, বিদ্রোহ ও প্রেম তাঁর সৃষ্টির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ।

তিনি বলেন, নজরুলের কালজয়ী সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো মানসম্মত ও বস্তুনিষ্ঠ অনুবাদ। তাঁর সমসাময়িক অনেক বিশ্বসাহিত্যিক বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও নজরুল তুলনামূলকভাবে এখনও উপেক্ষিত। তাঁর সাহিত্যকর্মের গভীরতা ও বৈশ্বিক আবেদন বিবেচনায় আন্তর্জাতিক পরিসরে নজরুলের পরিচিতি আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।

আলোচকরা বলেন, নজরুলের রচনায় মানবিক আন্তর্জাতিকতার শক্তিশালী অঙ্গীকার রয়েছে। অথচ যথাযথ উদ্যোগের অভাবে তাঁর সৃষ্টিকর্ম এখনও বিশ্বপরিসরে প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। নজরুলের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আরও গবেষণার পাশাপাশি ইংরেজিসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় তাঁর রচনা অনুবাদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

তারা বলেন, কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের কমিটির মাধ্যমে নজরুলকে বিশ্ববাসীর কাছে নতুনভাবে তুলে ধরার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। অনুবাদকদের দায়িত্ব হলো নজরুলের অম্লান চেতনাকে অন্য ভাষার পাঠকদের হৃদয়েও জ্বেলে দেওয়া।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, নজরুল-বর্ষে নজরুলবিষয়ক গবেষণা ও অনুবাদকর্মের দিকে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেমিনারে বাংলাদেশে অনূদিত নজরুল রচনার মান, অনুবাদ কৌশল ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে নজরুলের রচনা অনুবাদের পরিধি ও মান আরও বিস্তৃত হবে এবং বিশ্বপাঠক তাঁর সাহিত্যকর্মের গভীর পরিচয় লাভ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী টিটো মুন্সী। নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফেরদৌস আরা, শহীদ কবির পলাশ ও শাহীনুর রেজা।

অনুষ্ঠানে যন্ত্রসংগীতে ছিলেন কাজী মো. ইমতিয়াজ সুলতান (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি), মো. নূর এ আলম সজীব (কী-বোর্ড), বিদ্যুৎ রায় (অক্টোপ্যাড) এবং মো. মনোয়ার হোসেন (গিটার)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মাহবুবা রহমান।