ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাগরে ট্রলালের ইঞ্জিন বিকল, ১৮ জেলে উদ্ধারের অপেক্ষায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 65

ট্রলার

ভোলার চরফ্যাশন থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় চার দিন ধরে গভীর সাগরে ভাসছেন মাঝি হানিফ মিয়াসহ ১৮ জেলে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আশপাশে থাকা অন্য ট্রলারগুলো তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। এ অবস্থায় দ্রুত কোস্টগার্ড বা নৌবাহিনীর বড় নৌযান পাঠিয়ে জেলেদের উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় মৎস্যঘাট ও জেলেদের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশনের হাজারীগঞ্জ মাইনুদ্দিনঘাট থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে যাত্রা করে ট্রলারটি। গত শনিবার ভোররাতে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে ট্রলারটির ইঞ্জিন পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকে সেটি গভীর সাগরে ভাসছে।

স্বজনদের দাবি, ট্রলারটি বর্তমানে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচরসংলগ্ন মোহনা থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থান করছে। আশপাশের কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার জেলেদের দেখতে পেলেও উত্তাল সাগরের কারণে তাদের কাছে যেতে পারছে না। দূর থেকে হাতের ইশারা ও চিৎকার করে জেলেরা সহায়তা চাইছেন বলে জানিয়েছেন অন্য ট্রলারের মাঝিরা।

জেলেদের আটকে পড়ার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, উপকূল থেকে এত দূরে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার মতো বড় নৌযান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থানীয় স্টেশনগুলোতে নেই। ফলে বর্তমানে সাগরে থাকা অন্যান্য ট্রলারের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এদিকে ট্রলারটির মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তাঁর বাবার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছে। হানিফ মিয়া তাঁকে জানিয়েছেন, সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় কোনো ট্রলার তাদের কাছে আসতে পারছে না। কয়েকটি ট্রলারের জেলেদের হাতের ইশারায় সহায়তা চাইলেও ঢেউয়ের কারণে তারা এগিয়ে আসেননি।

মেহেদী হাসানের দাবি, চার দিন ধরে সাগরে ভাসতে থাকায় ট্রলারে থাকা খাবার ও সুপেয় পানি শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। ৯৯৯ ও কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত উদ্ধারকারী নৌযান পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

স্বজন ও স্থানীয় মৎস্যঘাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সময় যত গড়াচ্ছে জেলেদের জীবনঝুঁকি তত বাড়ছে। তাই আর দেরি না করে নৌবাহিনী অথবা কোস্টগার্ডের বড় নৌযান পাঠিয়ে গভীর সাগর থেকে ১৮ জেলেকে উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাগরে ট্রলালের ইঞ্জিন বিকল, ১৮ জেলে উদ্ধারের অপেক্ষায়

সর্বশেষ আপডেট ০২:১২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশন থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় চার দিন ধরে গভীর সাগরে ভাসছেন মাঝি হানিফ মিয়াসহ ১৮ জেলে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আশপাশে থাকা অন্য ট্রলারগুলো তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। এ অবস্থায় দ্রুত কোস্টগার্ড বা নৌবাহিনীর বড় নৌযান পাঠিয়ে জেলেদের উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় মৎস্যঘাট ও জেলেদের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশনের হাজারীগঞ্জ মাইনুদ্দিনঘাট থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে যাত্রা করে ট্রলারটি। গত শনিবার ভোররাতে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে ট্রলারটির ইঞ্জিন পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকে সেটি গভীর সাগরে ভাসছে।

স্বজনদের দাবি, ট্রলারটি বর্তমানে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচরসংলগ্ন মোহনা থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থান করছে। আশপাশের কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার জেলেদের দেখতে পেলেও উত্তাল সাগরের কারণে তাদের কাছে যেতে পারছে না। দূর থেকে হাতের ইশারা ও চিৎকার করে জেলেরা সহায়তা চাইছেন বলে জানিয়েছেন অন্য ট্রলারের মাঝিরা।

জেলেদের আটকে পড়ার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, উপকূল থেকে এত দূরে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার মতো বড় নৌযান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থানীয় স্টেশনগুলোতে নেই। ফলে বর্তমানে সাগরে থাকা অন্যান্য ট্রলারের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এদিকে ট্রলারটির মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তাঁর বাবার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছে। হানিফ মিয়া তাঁকে জানিয়েছেন, সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় কোনো ট্রলার তাদের কাছে আসতে পারছে না। কয়েকটি ট্রলারের জেলেদের হাতের ইশারায় সহায়তা চাইলেও ঢেউয়ের কারণে তারা এগিয়ে আসেননি।

মেহেদী হাসানের দাবি, চার দিন ধরে সাগরে ভাসতে থাকায় ট্রলারে থাকা খাবার ও সুপেয় পানি শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। ৯৯৯ ও কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত উদ্ধারকারী নৌযান পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

স্বজন ও স্থানীয় মৎস্যঘাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সময় যত গড়াচ্ছে জেলেদের জীবনঝুঁকি তত বাড়ছে। তাই আর দেরি না করে নৌবাহিনী অথবা কোস্টগার্ডের বড় নৌযান পাঠিয়ে গভীর সাগর থেকে ১৮ জেলেকে উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।