সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 145
দেশের বিভিন্ন মিল-কারখানায় গ্যাস সংকট চলছে; এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এই সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়, বরং আগের সময় থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরীর হোটেল মেট্রোর কনফারেন্স রুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট থেকে স্থায়ীভাবে বের হতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়েও বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ সমাধানের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গরমের কারণে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। শীতকালে চাহিদা কিছুটা কমে আসবে। পাশাপাশি দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করা গেলে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের সংকট অনেকটাই কমে যাবে। তবে স্থায়ীভাবে গ্যাস সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে সময় লাগবে।
গত ৫-১০ দিনে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে দুটি এফএসআরইউর একটি থেকে গ্যাস নামাতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে অন্য একটি এফএসআরইউ থেকে নতুন করে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এর সুফল ইতোমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। অপর এফএসআরইউতেও কাজ চলছে। সেটি চালু হলে দুটি টার্মিনাল থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস পাওয়া যাবে এবং এক মাস আগের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
শিল্প-কারখানায় জ্বালানি সংকটকে দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিল্পের সঙ্গে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সরাসরি জড়িত। নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, এলএনজি আমদানি বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং সরকার সেগুলো দূর করার চেষ্টা করছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হলেও এর মধ্যে বসে থাকার সুযোগ নেই। তাই সাময়িকভাবে সংকট মোকাবিলায় প্রচলিত টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, সেটিও সরকার বিবেচনা করছে।
মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগের কথাও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনে কথা হয়েছে। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের বড় জাহাজে করে এলএনজি এনে বাংলাদেশের বহিঃসমুদ্রে ছোট জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
তবে মালয়েশিয়ার ছোট এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজগুলো আগে থেকেই বিভিন্ন কাজে বুকড থাকায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছুটা জটিলতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।






























