ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধূমপান ও তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ গড়তে সমবায় অধিদপ্তরের উদ্যোগ

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 17

ধূমপান ও তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ গড়তে সমবায় অধিদপ্তরের উদ্যোগ

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষায় দেশের সব সমবায় কার্যালয়কে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যমুক্ত পরিবেশে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সমবায় অধিদপ্তর। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. সেলিম ফকির।

সোমবার (৩ আগস্ট) সমবায় অধিদপ্তর এবং ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্প)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সমবায় অধিদপ্তরের সকল কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডর্প-এর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা। তিনি বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের বর্তমান চিত্র, পরোক্ষ ধূমপানের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধন-২০২৬)-এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে অকালমৃত্যুর শিকার হন। তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন, যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ ধূমপায়ী। এছাড়া প্রায় ৪ কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন।

জেবা আফরোজা বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এ প্রেক্ষাপটে সমবায় অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ সরকারি ও বেসরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) মো. নবীরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে শিশু-কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছেন। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংশোধিত আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থান ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, ধূমপান ও তামাকমুক্ত স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তামাক নিয়ন্ত্রণে সমবায় অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ধূমপান ও তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ গড়তে সমবায় অধিদপ্তরের উদ্যোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষায় দেশের সব সমবায় কার্যালয়কে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যমুক্ত পরিবেশে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সমবায় অধিদপ্তর। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. সেলিম ফকির।

সোমবার (৩ আগস্ট) সমবায় অধিদপ্তর এবং ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্প)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সমবায় অধিদপ্তরের সকল কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডর্প-এর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা। তিনি বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের বর্তমান চিত্র, পরোক্ষ ধূমপানের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধন-২০২৬)-এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে অকালমৃত্যুর শিকার হন। তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন, যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ ধূমপায়ী। এছাড়া প্রায় ৪ কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন।

জেবা আফরোজা বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এ প্রেক্ষাপটে সমবায় অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ সরকারি ও বেসরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন, মাসউ ও ফাইন্যান্স) মো. নবীরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে শিশু-কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছেন। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংশোধিত আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থান ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, ধূমপান ও তামাকমুক্ত স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তামাক নিয়ন্ত্রণে সমবায় অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।