ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দূর দেশে বাংলাদেশ-পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • / 31

ছবি: বাসস নিউজ

দীর্ঘদিনের শীতলতা কাটিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক কি নতুন মোড় নিচ্ছে? নিরাপত্তা সহযোগিতা, মাদক পাচার দমন, রোহিঙ্গা সংকট, পুলিশ প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ‘সেফ সিটি’ প্রযুক্তি- সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন বার্তা মিলেছে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভি মুখোমুখি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ঢাকা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে- অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় বাংলাদেশ।

বৈঠকে উঠে আসে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা, পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার রোধে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। তাঁর ভাষায়, এই উদ্যোগ দুই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টিও। সরকারের মতে, এই রুট চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে শুধু সহযোগিতার কথাই নয়, মানবিক একটি সংবেদনশীল বিষয়ও তুলে ধরেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, পাকিস্তানে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবার প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (সিএনআইসি) পাচ্ছেন না। ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। বিষয়টির দ্রুত সমাধানে পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানায় ঢাকা।

বৈঠকে পাকিস্তানের ‘সেফ সিটি’ প্রকল্পেরও প্রশংসা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, পাকিস্তানের ৪০টির বেশি শহরে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাংলাদেশেও এমন মডেল বাস্তবায়নে পাকিস্তানের কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করে ঢাকা।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ চায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে পাকিস্তান আগের মতোই সক্রিয় সমর্থন অব্যাহত রাখুক, যাতে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা যায়।

বৈঠকের শেষদিকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জবাবে সুবিধাজনক সময়ে সফরের আশ্বাস দেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

দুই দেশের সম্পর্কের এই নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

 

সূত্র: বাসস নিউজ

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দূর দেশে বাংলাদেশ-পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘদিনের শীতলতা কাটিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক কি নতুন মোড় নিচ্ছে? নিরাপত্তা সহযোগিতা, মাদক পাচার দমন, রোহিঙ্গা সংকট, পুলিশ প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ‘সেফ সিটি’ প্রযুক্তি- সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন বার্তা মিলেছে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভি মুখোমুখি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ঢাকা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে- অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় বাংলাদেশ।

বৈঠকে উঠে আসে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা, পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার রোধে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। তাঁর ভাষায়, এই উদ্যোগ দুই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টিও। সরকারের মতে, এই রুট চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে শুধু সহযোগিতার কথাই নয়, মানবিক একটি সংবেদনশীল বিষয়ও তুলে ধরেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, পাকিস্তানে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবার প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (সিএনআইসি) পাচ্ছেন না। ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। বিষয়টির দ্রুত সমাধানে পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানায় ঢাকা।

বৈঠকে পাকিস্তানের ‘সেফ সিটি’ প্রকল্পেরও প্রশংসা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, পাকিস্তানের ৪০টির বেশি শহরে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাংলাদেশেও এমন মডেল বাস্তবায়নে পাকিস্তানের কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করে ঢাকা।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ চায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে পাকিস্তান আগের মতোই সক্রিয় সমর্থন অব্যাহত রাখুক, যাতে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা যায়।

বৈঠকের শেষদিকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জবাবে সুবিধাজনক সময়ে সফরের আশ্বাস দেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

দুই দেশের সম্পর্কের এই নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

 

সূত্র: বাসস নিউজ