চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন
জামায়াতের মনোগ্রাম থেকে ‘আকিমুদ দ্বীন’ বাদ কেন?
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 62
নিজেদের ইসলামি দল হিসেবে পরিচয় দিলেও একটি রাজনৈতিক দল (জামায়াত) তাদের দলীয় দলিল ও মনোগ্রাম থেকে ‘আকিমুদ দ্বীন’ (জীবন ও সমাজে ইসলাম বাস্তবায়ন) বাদ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগরী মাদরাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মহাসম্মেলনে যোগ দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যরা ফটিকছড়িতে যান। এ উপলক্ষে মাদরাসা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে।
সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং দেশের সংকটকালে হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও দ্বীন, দেশ ও ইসলামবিদ্বেষী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিল। এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন সংগঠনটির বর্তমান আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর সময় লেগেছিল। আর ফ্যাসিবাদী ও আলেম-ওলামাবিরোধী সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে লেগেছে ১৬ থেকে ১৭ বছর। শাপলা চত্বরে অনেক আলেম-ওলামা রক্ত দিয়েছেন। তাঁদের অনেকের নাম ও কবরের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে।
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে ১৬-১৭ বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তিনি নিজেও গুমের শিকার হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া প্রায় সাত হাজার মানুষ হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ হামলা-মামলার মাধ্যমে নিপীড়িত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমরা কি আবার সেই ফ্যাসিবাদীদের পুনরাগমন চাই? প্রত্যাবর্তন চাই? তাহলে সেই ক্ষেত্র আজকে কারা তৈরি করে দিচ্ছে?’
তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, যারা এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে। দেশে কিছু দুষ্কৃতকারী ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করছে। অথচ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামের বিষয়টি নেই বললেই চলে।
তিনি আরও বলেন, তারা মুখে এক কথা বললেও দলীয় দলিল ও ইশতেহারে ইসলামের শাসনব্যবস্থা কিংবা শরিয়াভিত্তিক আইন চালুর বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। বরং শরিয়াভিত্তিক শাসনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নিজেদের ইসলামি দল দাবি করলেও দলীয় মনোগ্রাম থেকে ‘আকিমুদ দ্বীন’ বাদ দিয়েছে।
নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারা ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশের সব জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান তাঁরা।
জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করবে সরকার। একই সঙ্গে ইসলামি মূল্যবোধের বিষয়গুলোও সংবিধানে ধারণ করা হবে।
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা উচিত। সরকারকে সহযোগিতা করা যেতে পারে, তবে দেশের মানুষের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে সহযোগিতা করা উচিত নয়।
দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি আলেম-ওলামা ও কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামারা বক্তব্য দেন। শুক্রবার রাতে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ মহাসম্মেলনের সমাপ্তি হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।






























