ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চাপে ক্রেতারা

এক মাসে চিনিগুঁড়া চালের দাম বেড়েছে ৪৫ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / 7

এক মাসে চিনিগুঁড়া চালের দাম বেড়েছে ৪৫ টাকা

মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নওগাঁর বাজারে সুগন্ধি চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত মাসে যে চাল ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেটিই এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। অন্যদিকে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া চালের দাম পৌঁছেছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। অস্বাভাবিক এ মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।

বুধবার (৩০ জুলাই) নওগাঁ পৌর এলাকার খুচরা ও পাইকারি চাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, শুধু এক সপ্তাহেই আতপ চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। মাসের হিসাবে এই বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। বর্তমানে মানভেদে খোলা বাজারে চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। একই সময়ে প্যাকেটজাত চালের দামও বেড়ে ২০০ থেকে ২১০ টাকায় পৌঁছেছে।

শুধু চিনিগুঁড়া নয়, কাটারি ও জিরাশাইলসহ অন্যান্য চিকন চালের দামও বেড়েছে। বর্তমানে এসব চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮২ টাকায়। তবে মোটা স্বর্ণা-৫ চালের বাজারে বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তন হয়নি।

বস্তাপ্রতি বেড়েছে প্রায় দুই হাজার টাকা

ব্যবসায়ীদের দাবি, গত এক মাসে ৫০ কেজির একটি চিনিগুঁড়া চালের বস্তার দাম প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

নওগাঁ পৌর চাল বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সুবল চন্দ্র সেন বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো প্যাকেটজাত চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার পর থেকেই খোলা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। নিয়মিত বাজার তদারকি করা হলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিপাকে সাধারণ ক্রেতা

চকবাড়িয়া এলাকার শ্রমজীবী আব্দুর রহিম বলেন, আগে প্রতি মাসে দুই-তিন কেজি চিনিগুঁড়া চাল কিনতেন। এখন এক কেজি কিনতেও হিসাব করে চলতে হচ্ছে। সন্তানদের জন্য বা অতিথি এলে পোলাও রান্না করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বরেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, বাজারে গেলেই নতুন দাম শুনতে হচ্ছে। এত অল্প সময়ে চালের এমন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাজারে কথা বলা আরও কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেন, অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় মূল্যবৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ তারা দেখছেন না। তাদের মতে, কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন।

করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

স্থানীয় ফারিহা ও শেখ রাইস মিলের মালিক শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, চালের বাজার ধীরে ধীরে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। তারা যেভাবে দাম নির্ধারণ করছে, তার প্রভাব পুরো বাজারে পড়ছে। এতে ছোট ও মাঝারি চালকলগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চিনিগুঁড়া চালের যে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, তা স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অভিযানের ঘোষণা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের

জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ বলেন, সুগন্ধি চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য মূলত দেশের কয়েকটি করপোরেট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দায়ী। তারা নিজেদের মতো করে দাম নির্ধারণ করছে। বিষয়টি তদন্তে খুব শিগগিরই বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চাপে ক্রেতারা

এক মাসে চিনিগুঁড়া চালের দাম বেড়েছে ৪৫ টাকা

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নওগাঁর বাজারে সুগন্ধি চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত মাসে যে চাল ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেটিই এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। অন্যদিকে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া চালের দাম পৌঁছেছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। অস্বাভাবিক এ মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।

বুধবার (৩০ জুলাই) নওগাঁ পৌর এলাকার খুচরা ও পাইকারি চাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, শুধু এক সপ্তাহেই আতপ চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। মাসের হিসাবে এই বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। বর্তমানে মানভেদে খোলা বাজারে চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। একই সময়ে প্যাকেটজাত চালের দামও বেড়ে ২০০ থেকে ২১০ টাকায় পৌঁছেছে।

শুধু চিনিগুঁড়া নয়, কাটারি ও জিরাশাইলসহ অন্যান্য চিকন চালের দামও বেড়েছে। বর্তমানে এসব চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮২ টাকায়। তবে মোটা স্বর্ণা-৫ চালের বাজারে বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তন হয়নি।

বস্তাপ্রতি বেড়েছে প্রায় দুই হাজার টাকা

ব্যবসায়ীদের দাবি, গত এক মাসে ৫০ কেজির একটি চিনিগুঁড়া চালের বস্তার দাম প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

নওগাঁ পৌর চাল বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সুবল চন্দ্র সেন বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো প্যাকেটজাত চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার পর থেকেই খোলা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। নিয়মিত বাজার তদারকি করা হলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিপাকে সাধারণ ক্রেতা

চকবাড়িয়া এলাকার শ্রমজীবী আব্দুর রহিম বলেন, আগে প্রতি মাসে দুই-তিন কেজি চিনিগুঁড়া চাল কিনতেন। এখন এক কেজি কিনতেও হিসাব করে চলতে হচ্ছে। সন্তানদের জন্য বা অতিথি এলে পোলাও রান্না করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বরেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, বাজারে গেলেই নতুন দাম শুনতে হচ্ছে। এত অল্প সময়ে চালের এমন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাজারে কথা বলা আরও কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেন, অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় মূল্যবৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ তারা দেখছেন না। তাদের মতে, কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন।

করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

স্থানীয় ফারিহা ও শেখ রাইস মিলের মালিক শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, চালের বাজার ধীরে ধীরে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। তারা যেভাবে দাম নির্ধারণ করছে, তার প্রভাব পুরো বাজারে পড়ছে। এতে ছোট ও মাঝারি চালকলগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চিনিগুঁড়া চালের যে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, তা স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অভিযানের ঘোষণা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের

জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ বলেন, সুগন্ধি চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য মূলত দেশের কয়েকটি করপোরেট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দায়ী। তারা নিজেদের মতো করে দাম নির্ধারণ করছে। বিষয়টি তদন্তে খুব শিগগিরই বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।