ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি এখনো অটুট: মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / 75
ইরানের সামরিক সক্ষমতা বড়ভাবে দুর্বল হয়ে গেছে—মার্কিন প্রশাসনের এমন দাবির মধ্যেই দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তাদের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসের শুরুতে প্রস্তুত করা গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার মধ্যে অন্তত ৩০টিই আবার সক্রিয় হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের যে ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ছিল, তার প্রায় ৭০ শতাংশ এখনো অক্ষত রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার বড় অংশও কার্যকর অবস্থায় আছে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে আরও জানানো হয়, ইরানজুড়ে থাকা ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ এখনো আংশিক বা পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে।
তবে এই মূল্যায়নকে গুরুত্ব দিতে নারাজ হোয়াইট হাউস। প্রশাসনের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস দাবি করেছেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদে বর্তমান সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ ধরে রাখতে পারবে না। তার ভাষায়, যারা মনে করছেন ইরান দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে, তারা বিভ্রান্ত অথবা ইরানের পক্ষের বক্তব্য প্রচার করছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি এবং মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
একপর্যায়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলে। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ।




































