ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে দ্বিতীয় দফা যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 27

ইরানের উপকূলজুড়ে নতুন দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বৃহস্পতিবার ভোরে নতুন দফার হামলা শেষ হওয়ার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংস্থাটি জানায়, প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, নৌ সক্ষমতা এবং সামরিক রসদ সরবরাহ কেন্দ্র।

এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান আলোচনা করতে চায় এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।

অন্যদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত দুই দিনের মার্কিন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

মার্কিন বাহিনীর দাবি, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে ৭ জুলাইও প্রায় ৮০টি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, কোনারাক, সিরিক ও বুশেহরসহ দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তর ইরানের দুটি রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তেহরান-মাশহাদ রেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য বিকল্প সড়ক পরিবহনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেল কর্তৃপক্ষ।

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি আবারও আলোচনার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ‘আঘাত করলে পাল্টা আঘাত পেতেই হবে।’ দেশটির সামরিক উপদেষ্টারাও যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান ও কাতারও।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইরানে দ্বিতীয় দফা যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ১৪

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

ইরানের উপকূলজুড়ে নতুন দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বৃহস্পতিবার ভোরে নতুন দফার হামলা শেষ হওয়ার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংস্থাটি জানায়, প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, নৌ সক্ষমতা এবং সামরিক রসদ সরবরাহ কেন্দ্র।

এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান আলোচনা করতে চায় এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।

অন্যদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত দুই দিনের মার্কিন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

মার্কিন বাহিনীর দাবি, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে ৭ জুলাইও প্রায় ৮০টি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, কোনারাক, সিরিক ও বুশেহরসহ দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তর ইরানের দুটি রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তেহরান-মাশহাদ রেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য বিকল্প সড়ক পরিবহনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেল কর্তৃপক্ষ।

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি আবারও আলোচনার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ‘আঘাত করলে পাল্টা আঘাত পেতেই হবে।’ দেশটির সামরিক উপদেষ্টারাও যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান ও কাতারও।