ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়কে অটোরিকশার লাগাম টানছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 134

অটোরিকশা

রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি; প্রায় সর্বত্রই অবাধে চলাচল করছে এসব যান। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অটোরিকশা তৈরি ও মেরামতের গ্যারেজ-ওয়ার্কশপ। অনুমোদন ও নির্দিষ্ট মানদণ্ডের তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অটোরিকশা সড়কে নামছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীর বসিলা, মোহাম্মদপুর, রায়েরবাজার, যাত্রাবাড়ী ও খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন ওয়ার্কশপে অটোরিকশা তৈরির কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট কারিগরদের ভাষ্য, চাহিদা অনুযায়ী তারা নিয়মিত এসব যান তৈরি করছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিক্রি কিছুটা কমেছে।

২০১০ সালের পর থেকে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিস্তার দ্রুত বাড়তে থাকে। এসব যানবাহনের বড় একটি অংশ অনুমোদনের বাইরে থাকায় রাজধানীতে মোট কতটি অটোরিকশা চলাচল করছে, তার সঠিক সরকারি পরিসংখ্যানও নেই। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঢাকায় এ ধরনের অটোরিকশার সংখ্যা ২০ লাখের বেশি।

অটোরিকশার লাগাম টানতে এবার নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে যানবাহনের নকশা, নির্মাণ, চলাচলের এলাকা, চালকের যোগ্যতা এবং সড়কে ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা রাখার কথা রয়েছে।

চালকদের অনেকেই বলছেন, অটোরিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট যোগ্যতা ছাড়া কেউ যেন এসব যান চালাতে না পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা হঠাৎ করে প্রধান সড়কে উঠে পড়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়কে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ হাদিউজ্জামান বলেন, অটোরিকশা নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারিগরি সংস্থার অনুমোদন থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে বিভিন্ন ওয়ার্কশপে ভিন্ন ভিন্ন নকশা ও আকারে অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে, যার কোনো অভিন্ন মানদণ্ড নেই। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তৈরি প্রোটোটাইপকে ভিত্তি করে এসব যান নির্মাণের বিধান রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাইফুন নেওয়াজ বলেন, জোনভিত্তিক চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে একটি এলাকার অটোরিকশা অন্য এলাকায় যেতে পারবে না। তবে এসব যানবাহনের শক্তির উৎস নিয়েও আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিদ্যুৎনির্ভরতার পাশাপাশি বিকল্প শক্তির উৎস ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকার সড়কে এসব যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অটোরিকশা চলাচল করলে যানজটমুক্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হবে। তাই এসব এলাকায় অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে নতুন নীতিমালা কতটা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তা কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সড়কে অটোরিকশার লাগাম টানছে সরকার

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি; প্রায় সর্বত্রই অবাধে চলাচল করছে এসব যান। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অটোরিকশা তৈরি ও মেরামতের গ্যারেজ-ওয়ার্কশপ। অনুমোদন ও নির্দিষ্ট মানদণ্ডের তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অটোরিকশা সড়কে নামছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীর বসিলা, মোহাম্মদপুর, রায়েরবাজার, যাত্রাবাড়ী ও খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন ওয়ার্কশপে অটোরিকশা তৈরির কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট কারিগরদের ভাষ্য, চাহিদা অনুযায়ী তারা নিয়মিত এসব যান তৈরি করছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিক্রি কিছুটা কমেছে।

২০১০ সালের পর থেকে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিস্তার দ্রুত বাড়তে থাকে। এসব যানবাহনের বড় একটি অংশ অনুমোদনের বাইরে থাকায় রাজধানীতে মোট কতটি অটোরিকশা চলাচল করছে, তার সঠিক সরকারি পরিসংখ্যানও নেই। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঢাকায় এ ধরনের অটোরিকশার সংখ্যা ২০ লাখের বেশি।

অটোরিকশার লাগাম টানতে এবার নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে যানবাহনের নকশা, নির্মাণ, চলাচলের এলাকা, চালকের যোগ্যতা এবং সড়কে ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা রাখার কথা রয়েছে।

চালকদের অনেকেই বলছেন, অটোরিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট যোগ্যতা ছাড়া কেউ যেন এসব যান চালাতে না পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা হঠাৎ করে প্রধান সড়কে উঠে পড়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়কে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ হাদিউজ্জামান বলেন, অটোরিকশা নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারিগরি সংস্থার অনুমোদন থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে বিভিন্ন ওয়ার্কশপে ভিন্ন ভিন্ন নকশা ও আকারে অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে, যার কোনো অভিন্ন মানদণ্ড নেই। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তৈরি প্রোটোটাইপকে ভিত্তি করে এসব যান নির্মাণের বিধান রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাইফুন নেওয়াজ বলেন, জোনভিত্তিক চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে একটি এলাকার অটোরিকশা অন্য এলাকায় যেতে পারবে না। তবে এসব যানবাহনের শক্তির উৎস নিয়েও আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিদ্যুৎনির্ভরতার পাশাপাশি বিকল্প শক্তির উৎস ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকার সড়কে এসব যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অটোরিকশা চলাচল করলে যানজটমুক্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হবে। তাই এসব এলাকায় অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে নতুন নীতিমালা কতটা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তা কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।