অটোরিকশার অবৈধ চার্জিংয়ে বিদ্যুতের অপচয়
- সর্বশেষ আপডেট ০২:২৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
- / 76
সারাদেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অবৈধ চার্জিংয়ে বিদ্যুতের অপচয় উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কড়াকড়ি করা হলেও অটোরিকশা খাতে প্রতিদিন প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা এই খাতকে সম্পূর্ণ বন্ধ না করে একটি বৈধ আইনি কাঠামো বা শৃঙ্খলায় আনার তাগিদ দিচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের পাম্পগুলোতেও তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। আসলে তেলের এই তীব্র সংকটের মুখে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে রাজধানীর সড়কে প্রায় ১৫ লাখ এবং সারাদেশে ৪০ লাখের বেশি অটোরিকশা চলছে। ফলে এই বিপুল সংখ্যক যানবাহনের চার্জিং প্রক্রিয়া বিদ্যুৎ খাতের ওপর বিশাল চাপ তৈরি করছে।
প্রতিটি অটোরিকশা প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে। সেই হিসেবে প্রতি মাসে এই খাতে প্রায় ৭২০ গিগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে। মূলত এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন হাজার হাজার টন ফার্নেস অয়েল ও গ্যাস পোড়াতে হচ্ছে। কিন্তু অবৈধ চার্জিং সিন্ডিকেটের কারণে সরকারের রাজস্ব আয় হচ্ছে না। তাছাড়া অবৈধ সংযোগের কারণে সিস্টেম লস এবং অগ্নিঝুঁকিও দিন দিন বাড়ছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও সবুজবাগ এলাকার চিত্র আরও ভয়াবহ। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক গ্যারেজে একটি মিটার দিয়েই অসংখ্য রিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কোথাও কোথাও সরাসরি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে হুকিং করে অবৈধ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এসব অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন গ্যারেজ মালিকরা। যার ফলে রাষ্ট্র বঞ্চিত হলেও একটি অসাধু চক্র লাভবান হচ্ছে।
সাধারণ চালকরা বলছেন যে, অভাবের তাড়নায় তারা এই পেশায় যুক্ত হয়েছেন। অবশ্য তারা জানেন এটি অবৈধ, কিন্তু জীবন ধারণের অন্য কোনো পথ তাদের জানা নেই। ফলস্বরূপ প্রতিদিন পেটের দায়ে হাজার হাজার চালক রাস্তায় নামছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এই বিশাল কর্মীবাহিনীকে কর্মহীন না করে প্রযুক্তির মাধ্যমে চার্জিং স্টেশনগুলোকে বৈধ করা প্রয়োজন।































