ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, আশ্রয়ে ৪৩৯২ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / 22

টানা ভারী বর্ষণের পর বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও রাঙামাটির বাঘাইছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। প্লাবিত গ্রামগুলোতে পানি এখনো স্থির থাকায় দুর্ভোগে রয়েছেন বাসিন্দারা।

এদিকে সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটককে সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।

রাঙামাটি আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টি কমলেও পাহাড় ধসের ঝুঁকি ও বন্যার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার ৪ হাজার ৩৯২ জন মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ব্যবস্থাপনায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা মানুষদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ১২৯টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়লে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। উপজেলার ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ২ হাজার ৫১৮ জন মানুষ অবস্থান করছেন। এর মধ্যে নিউ লাল্যঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রেই রয়েছে প্রায় ১ হাজার ১০০ জন।

এ ছাড়া রাঙামাটি পৌরসভার ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪০৯ জন, সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে ৪০ জন, কাউখালীতে ১৬০ জন, কাপ্তাইয়ে ১৯৮ জন, বিলাইছড়িতে ১২২ জন, বরকলে ১১৮ জন, রাজস্থলীতে ৪৮ জন, নানিয়ারচরে ৩৩ জন এবং জুরাছড়িতে ১৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

দুর্যোগের পাশাপাশি জেলায় পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবে, এ পর্যন্ত মোট ১০৪টি পাহাড় ধসের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিলাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, বাঘাইছড়িতে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১৩টি এবং অন্যান্য উপজেলায় কয়েকটি করে ধসের ঘটনা ঘটেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, আশ্রয়ে ৪৩৯২ মানুষ

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণের পর বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও রাঙামাটির বাঘাইছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। প্লাবিত গ্রামগুলোতে পানি এখনো স্থির থাকায় দুর্ভোগে রয়েছেন বাসিন্দারা।

এদিকে সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটককে সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।

রাঙামাটি আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টি কমলেও পাহাড় ধসের ঝুঁকি ও বন্যার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার ৪ হাজার ৩৯২ জন মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ব্যবস্থাপনায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা মানুষদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ১২৯টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়লে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। উপজেলার ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ২ হাজার ৫১৮ জন মানুষ অবস্থান করছেন। এর মধ্যে নিউ লাল্যঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রেই রয়েছে প্রায় ১ হাজার ১০০ জন।

এ ছাড়া রাঙামাটি পৌরসভার ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪০৯ জন, সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে ৪০ জন, কাউখালীতে ১৬০ জন, কাপ্তাইয়ে ১৯৮ জন, বিলাইছড়িতে ১২২ জন, বরকলে ১১৮ জন, রাজস্থলীতে ৪৮ জন, নানিয়ারচরে ৩৩ জন এবং জুরাছড়িতে ১৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

দুর্যোগের পাশাপাশি জেলায় পাহাড় ধসের ঘটনাও ঘটেছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবে, এ পর্যন্ত মোট ১০৪টি পাহাড় ধসের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিলাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, বাঘাইছড়িতে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১৩টি এবং অন্যান্য উপজেলায় কয়েকটি করে ধসের ঘটনা ঘটেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।