অর্ধেক দামে বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুতের পরিকল্পনা
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
- / 38
দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বাজারমূল্যের অর্ধেকেরও কম দামে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
প্রথম পর্যায়ে ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ইউজিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার কমিশনে অনুষ্ঠিত রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনবিষয়ক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
ইতোমধ্যে ৪৭টি পাবলিক ও একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে, যা অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রায় ৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা যাবে।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের প্রতি ইউনিট উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১৫ টাকা হলেও পরিচালন ব্যয়ভিত্তিক (ওপেক্স) মডেলে তা অর্ধেকেরও কমে নামিয়ে আনা সম্ভব।
পরীক্ষামূলক প্রকল্পে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ট্যারিফ ৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৭ টাকায় নেমে এসেছে। প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, শুল্ক ও কর সমন্বয় করা গেলে উৎপাদন ব্যয় ৬ টাকা ৫০ পয়সায় নামিয়ে আনার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ওপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের পুরো দায়িত্ব থাকবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীর ওপর। এতে সরকারের প্রাথমিক কোনো বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে না; বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করবে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দরপত্র, তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যুৎ ব্যয় কমার পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতাও হ্রাস পাবে।
ইউজিসি জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বড় পরিসরে প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রস্তুতি চলছে। এ পর্যন্ত ১৪টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
কমিশনের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার গড়ে ২০ শতাংশ কমানো এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়িয়ে মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ৫ থেকে ১০ শতাংশ হ্রাস করা।


































