পাপেটম্যান মুস্তাফা মনোয়ারের বিদায়
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৩০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 36
দেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী, পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
স্কয়ার হাসপাতাল সূত্র তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিউমোনিয়া ও প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চলতি মাসের ১৪ জুন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
শিল্পীর ব্যক্তিগত সহকারী রুবেল মিয়া জানান, হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে নেওয়া হবে। পরে ধানমন্ডি ১ নম্বরে তাঁর নিজ বাসভবনে রাখা হবে। জানাজা ও দাফনের সময় ও স্থান পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর কবি গোলাম মোস্তফার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। শৈশব থেকেই ছবি আঁকা ও সংগীতের প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। নবম শ্রেণিতে পড়াকালেই তিনি ভাষা আন্দোলনে যুক্ত হন এবং ছবি আঁকার কারণে কারাবরণও করেন।
বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে মুস্তাফা মনোয়ার এক অনন্য নাম। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লাল সূর্যের অন্যতম নকশাকার হিসেবে তিনি পরিচিত। শিশুদের প্রিয় চরিত্র ‘পারুল’ সৃষ্টি করেন তিনি। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত শিশুতোষ চরিত্র ‘মীনা’-র সঙ্গেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সম্পৃক্ততা ছিল।
শুধু চিত্রশিল্পী হিসেবেই নয়, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল বিকাশে তাঁর অবদানও অনন্য। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’-র অন্যতম রূপকার ছিলেন তিনি। এছাড়া তাঁর নির্মিত ‘মনের কথা’ অনুষ্ঠানও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের শরণার্থী শিবিরে যুদ্ধাহত ও আতঙ্কগ্রস্ত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি প্রথম পাপেট শো আয়োজন করেন। স্বাধীনতার পর সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে বাংলাদেশে পাপেট শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। এ কারণেই তিনি ‘বাংলাদেশের পাপেটম্যান’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
কর্মজীবনে তিনি পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (বিএফডিসি) এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন।
দেশের শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। এছাড়াও জীবদ্দশায় তিনি বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেন।
মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। তাঁর সৃষ্টিকর্ম, শিল্পভাবনা এবং শিশুদের জন্য রেখে যাওয়া অসামান্য অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণীয় হয়ে থাকবে।





































