ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার আমদানিতে বড় সহায়তা বিশ্বব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • / 22

বিশ্ব ব্যাংক

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, জ্বালানি খাতের চাপ মোকাবিলা এবং মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় বাংলাদেশকে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

শুক্রবার (২৬ জুন) পৃথক দুটি প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র কৃষক, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, এই সহায়তার মাধ্যমে ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থান রক্ষা এবং জরুরি জনসেবা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা হবে।

‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় ২০২৬ সালের আমন ও ২০২৬-২৭ মৌসুমের বোরো চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন সার আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যার অর্ধেকই ইউরিয়া। এর মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। সারের ঘাটতি দেখা দিলে খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারত।

এদিকে ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় বরাদ্দ অর্থের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা এবং জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। বাকি অর্থ খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ সচল রাখতে জ্বালানি খাতে ব্যয় করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো জানান, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে এই জরুরি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এতে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছাড়াই দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। চলতি ৩০ জুনের মধ্যেই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সার আমদানিতে বড় সহায়তা বিশ্বব্যাংকের

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, জ্বালানি খাতের চাপ মোকাবিলা এবং মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় বাংলাদেশকে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

শুক্রবার (২৬ জুন) পৃথক দুটি প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র কৃষক, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, এই সহায়তার মাধ্যমে ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থান রক্ষা এবং জরুরি জনসেবা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা হবে।

‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় ২০২৬ সালের আমন ও ২০২৬-২৭ মৌসুমের বোরো চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন সার আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যার অর্ধেকই ইউরিয়া। এর মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। সারের ঘাটতি দেখা দিলে খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারত।

এদিকে ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় বরাদ্দ অর্থের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা এবং জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। বাকি অর্থ খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ সচল রাখতে জ্বালানি খাতে ব্যয় করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো জানান, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে এই জরুরি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এতে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছাড়াই দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। চলতি ৩০ জুনের মধ্যেই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।