হরমুজ সংকট নিরসনে মঙ্গলবার দোহায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 28
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া তীব্র সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে এবং সম্ভাব্য বড় সংঘাত এড়াতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ লক্ষ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বৈঠকে হরমুজ প্রণালির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি প্রধান এজেন্ডা বা আলোচ্য বিষয় হিসেবে স্থান পাবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, চলমান উত্তেজনা কমানোর স্বার্থে ওয়াশিংটন তাদের সাময়িক সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই সামরিক স্থগিতাদেশের বিষয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বা তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মূল যুদ্ধ শেষের পর দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌযান চলাচল সংক্রান্ত ধারাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা ও জবরদস্তিমূলক অবস্থান থেকেই নতুন করে এই চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার সূত্রপাত হয়েছিল।
এদিকে, সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলার পর পূর্বনির্ধারিত কারিগরি (Technical) পর্যায়ের আলোচনা থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও সমঝোতার মূল শর্তগুলো পূরণ না করায় গত রোববারের কারিগরি বৈঠকে অংশ নেয়নি তেহরান। ওয়াশিংটন যদি তাদের প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন না করে, তবে আগামী দিনের আলোচনায় কোনো ধরনের অগ্রগতি সম্ভব নয় বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক কড়া বিবৃতিতে বলেছেন, “ঐতিহাসিকভাবেই হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখার আইনি দায়িত্ব একমাত্র ইরানের। এই জলপথে বহিরাগত কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ বা নাক গলানোকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।”
অন্য এক ঘটনায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলি খামেনি মার্কিন ও ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, বেআইনি আগ্রাসন এবং ‘শিশুহত্যার’ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে (International Court) বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, সর্বোচ্চ নেতার এই চরম অবস্থানের কারণে মঙ্গলবারের দোহা বৈঠকের টেবিলে মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকদের বেশ কঠিন দরকষাকষির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।




































