পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ করে ফের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 122
কয়েক দিনের তীব্র সামরিক উত্তেজনা এবং বিমান হামলার পর অবশেষে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ করে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল রোববার (২৮ জুন) এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হলো এবং ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা পূর্ববর্তী শান্তি চুক্তিটি টিকে থাকার নতুন আশা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারের দোহায় দুই দেশের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের টেকনিক্যাল বা কারিগরি আলোচনা পুনরায় শুরু হবে। মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, “সমঝোতা স্মারকের সব বিষয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আপাতত উভয় পক্ষ যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকবে এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো অবাধে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।”
গত কয়েকদিন ধরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের উপকূলবর্তী সামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালায়।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমান হামলার পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত অন্তত আটটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে দাবি করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এই পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতির চুক্তি মেনে না চললে ইরানের অস্তিত্ব বিলীন করে দেওয়া হবে। তবে কাতারের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি এখন শান্ত হতে শুরু করেছে।
এদিকে সামগ্রিক এই উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা গত রোববার আবারও লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, এই হামলায় দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত একটি বড় ভূগর্ভস্থ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। এই আঞ্চলিক সংঘাত প্রসঙ্গে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৃহত্তর শান্তি ও সমঝোতা পুরোপুরি কার্যকর রাখতে হলে লেবানন ও গাজায় চলমান এই প্রক্সি সংঘাতেরও স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে।

























