ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিজবুল্লাহ শর্তে নতুন যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েল-লেবানন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২২:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / 10

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। তবে এই সমঝোতা কার্যকর হবে তখনই, যখন হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণভাবে হামলা বন্ধ করবে এবং লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে তাদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নেবে।

একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে বিশেষ ‘পাইলট নিরাপত্তা অঞ্চল’ গঠনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত চতুর্থ দফার আলোচনার পর বুধবার (৩ জুন) ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় শুধুমাত্র লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং সেখানে কোনো অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না।

চুক্তি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর হামলা পুরোপুরি বন্ধ হওয়া এবং লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে তাদের সদস্যদের প্রত্যাহারের ওপর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। তিন দেশই জোর দিয়ে বলেছে, লেবাননের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কেবল লেবানন ও ইসরায়েলের বৈধ সরকার; কোনো রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষ তা জিম্মি করে রাখতে পারবে না।

এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, আপাতত দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করবে। সম্প্রতি দখল করা ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ এলাকাও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংসে অভিযান চলবে এবং প্রয়োজন হলে বৈরুতে হামলার স্বাধীনতাও ইসরায়েলের থাকবে।

ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার বলেন, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অতীতের মতো যুদ্ধবিরতি ভেঙে হিজবুল্লাহর পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ বন্ধ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার সমঝোতাটি দীর্ঘস্থায়ী হবে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যস্থতায় আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী ২২ জুন নতুন দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও লেবাননের প্রেসিডেন্টদের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা চলছে।

যদিও যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে, তবুও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার দাবি করেছে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা লেবানন থেকে ছোড়া একটি শত্রু ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

লেবানন এই যুদ্ধবিরতিকে পূর্ণাঙ্গ জাতীয় শান্তি চুক্তিতে রূপ দিতে চায়। তবে ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত তারা সামরিক অভিযান বন্ধ করবে না এবং বর্তমানে দখলে থাকা এলাকা থেকেও সেনা প্রত্যাহার করবে না।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হিজবুল্লাহ শর্তে নতুন যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েল-লেবানন

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২২:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। তবে এই সমঝোতা কার্যকর হবে তখনই, যখন হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণভাবে হামলা বন্ধ করবে এবং লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে তাদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নেবে।

একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে বিশেষ ‘পাইলট নিরাপত্তা অঞ্চল’ গঠনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত চতুর্থ দফার আলোচনার পর বুধবার (৩ জুন) ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় শুধুমাত্র লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং সেখানে কোনো অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না।

চুক্তি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর হামলা পুরোপুরি বন্ধ হওয়া এবং লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে তাদের সদস্যদের প্রত্যাহারের ওপর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। তিন দেশই জোর দিয়ে বলেছে, লেবাননের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কেবল লেবানন ও ইসরায়েলের বৈধ সরকার; কোনো রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষ তা জিম্মি করে রাখতে পারবে না।

এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, আপাতত দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করবে। সম্প্রতি দখল করা ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ এলাকাও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংসে অভিযান চলবে এবং প্রয়োজন হলে বৈরুতে হামলার স্বাধীনতাও ইসরায়েলের থাকবে।

ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার বলেন, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অতীতের মতো যুদ্ধবিরতি ভেঙে হিজবুল্লাহর পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ বন্ধ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার সমঝোতাটি দীর্ঘস্থায়ী হবে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যস্থতায় আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী ২২ জুন নতুন দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও লেবাননের প্রেসিডেন্টদের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা চলছে।

যদিও যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে, তবুও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার দাবি করেছে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা লেবানন থেকে ছোড়া একটি শত্রু ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

লেবানন এই যুদ্ধবিরতিকে পূর্ণাঙ্গ জাতীয় শান্তি চুক্তিতে রূপ দিতে চায়। তবে ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত তারা সামরিক অভিযান বন্ধ করবে না এবং বর্তমানে দখলে থাকা এলাকা থেকেও সেনা প্রত্যাহার করবে না।