ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে শর্তসাপেক্ষ শান্তির আভাস
- সর্বশেষ আপডেট ১২:০০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / 79
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর অবশেষে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। তবে এই যুদ্ধবিরতি মাঠপর্যায়ে পুরোপুরি কার্যকর হবে কিনা, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সব ধরনের হামলা বন্ধ করার ওপর।
গত বুধবার (৩ জুন) দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি যৌথ বিবৃতিতে এই ঐতিহাসিক তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই পক্ষ এই বিশেষ সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে।
নতুন এই দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা অনুযায়ী, সীমান্তে কিছু ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক এলাকা গঠন করা হবে। এই নির্ধারিত এলাকাগুলোতে কোনো ধরনের অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী অবস্থান করতে পারবে না এবং এসব অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে একমাত্র লেবাননের সরকারি সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। যুদ্ধবিরতির মূল শর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের ওপর সব ধরনের হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। একই সাথে দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত হিজবুল্লাহর সমস্ত সদস্যদের অনতিবিলম্বে সেই এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে হবে বলে যৌথ বিবৃতিতে কড়া শর্ত দেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটনে যখন এই শান্তি সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই দিনও সীমান্তে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত অব্যাহত ছিল। সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে বড় ধরণের হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তীব্র বিমান হামলা চালালে অন্তত নয়জন মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মূলত এই বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেই দুই দেশের প্রতিনিধিরা শান্তি ফেরাতে আলোচনা চালিয়ে গেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটনের এই বিশেষ বৈঠকটিকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চতুর্থ দফার সরাসরি আলোচনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এবারের বৈঠকে দুই পক্ষের ইতিবাচক সম্মতির পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে আগামী ২২ জুনের পর আবারও দুই পক্ষ পরবর্তী দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে। পরিশেষে বলা যায়, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সফল হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অশান্ত সীমান্ত পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তি এনে দেবে।

































