সীমান্ত সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 50
আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারের ‘জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১’ এবং ‘পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬-২০৩১’ বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও অভিবাসন তল্লাশিচৌকিগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় প্রয়োজন।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর না করে মানবাধিকার, মানবিক সুরক্ষা ও পেশাদারত্বের ভিত্তিতে গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তিনি।
মানব পাচার, অবৈধ অভিবাসন ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আইওএমের প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
উন্নয়ন সহযোগীদের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ শুধু বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ বিশ্বায়নেও ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আইওএমের বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে ভ্রমণের ধরন ও কার্যক্রমের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনবল, কার্যকর ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন। সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সহযোগিতা দিতে আইওএম আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি মানব পাচার, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং পরিচয় জালিয়াতি প্রতিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
কৌশলগত রূপরেখায় সহযোগিতার চারটি প্রধান ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ব্যবস্থা ও তথ্য আদান-প্রদান, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচিত সীমান্ত পয়েন্টে অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন। সরকারের জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের পাঁচ বছরব্যাপী সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনার আলোকে এ রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।































