ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি যোগাযোগ বিছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৫০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 15

ছবি: সংগৃহীত

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে রীতিমতো বিপর্যস্ত রাঙামাটি। জেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক পাহাড়ধসে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ধসে ও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে- পাহাড়ধস ও সড়কে পানি ওঠায় দুই জেলার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলায় অন্তত ৯৮টি স্থানে পাহাড়ধস হয়েছে। এর মধ্যে বিলাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, কাপ্তাইয়ে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১১টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি, নানিয়ারচরে ২টি এবং অন্যান্য এলাকায় আরও ধসের ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ২০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। ইতোমধ্যে ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৪ হাজার ১৬৬ জন দুর্গত মানুষ। তাদের জন্য তিন বেলা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বর্তমানে রাঙামাটি পৌরসভা, সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, রাজস্থলী, নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত পরিবারগুলো অবস্থান করছে। উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. তারেক সেকান্দার জানান, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানরত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়া বলেন, “ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস হচ্ছে। আমরা কোনো প্রাণহানি চাই না। যারা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়েছেন, তারা দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসুন।”

প্রশাসনের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও নতুন করে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি যোগাযোগ বিছিন্ন

সর্বশেষ আপডেট ০২:৫০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে রীতিমতো বিপর্যস্ত রাঙামাটি। জেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক পাহাড়ধসে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ধসে ও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে- পাহাড়ধস ও সড়কে পানি ওঠায় দুই জেলার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলায় অন্তত ৯৮টি স্থানে পাহাড়ধস হয়েছে। এর মধ্যে বিলাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, কাপ্তাইয়ে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১১টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি, নানিয়ারচরে ২টি এবং অন্যান্য এলাকায় আরও ধসের ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ২০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। ইতোমধ্যে ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৪ হাজার ১৬৬ জন দুর্গত মানুষ। তাদের জন্য তিন বেলা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বর্তমানে রাঙামাটি পৌরসভা, সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, রাজস্থলী, নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত পরিবারগুলো অবস্থান করছে। উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. তারেক সেকান্দার জানান, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানরত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়া বলেন, “ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস হচ্ছে। আমরা কোনো প্রাণহানি চাই না। যারা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়েছেন, তারা দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসুন।”

প্রশাসনের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও নতুন করে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।