মেটলাইফে ব্রাজিল-মরক্কো পয়েন্ট ভাগাভাগি
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- / 66
নিউজার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রায় ৮২ হাজার ফুটবল অনুরাগী দর্শকের টানটান উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের এক বহুল প্রতীক্ষিত ও হাইভোল্টেজ ম্যাচে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলকে রুখে দিয়েছে আফ্রিকান জায়ান্ট মরক্কো। মাঠের ভেতরে ১০০ মিনিটেরও বেশি সময়ের এক রুদ্ধশ্বাস ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে কোনো দলই শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পায়নি। ফলে ১-১ গোলের সমতা নিয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই দলকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে চেপে ধরে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী ফুটবল উপহার দিতে থাকে মরক্কো। ম্যাচের ১৭ মিনিটের মাথায় তাদের সেই চমৎকার আগ্রাসনের ফলও হাতেনাতে চলে আসে। মরক্কোর তারকা ব্রাহিম দিয়াজের বাড়িয়ে দেওয়া একটি দুর্দান্ত থ্রু পাস ধরে ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে এক পেয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান আবদে সাইবারি। নিখুঁত কাউন্টার অ্যাটাক (পাল্টা আক্রমণ) থেকে করা এই দর্শনীয় গোলে ম্যাচের শুরুতেই স্তব্ধ হয়ে যায় সেলেসাও শিবির এবং এগিয়ে যায় আটলাস লায়ন্সরা।
গোল হজম করার পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে উঠলেও বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচের ৩২ মিনিটের মাথায় রাফিনহার চমৎকার পাস থেকে মরক্কোর ডি-বক্সের বাঁ প্রান্তে বল পান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সেখান থেকে ডান পায়ের এক নিখুঁত ও দৃষ্টিনন্দন কার্লড শটে বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বউনো ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও বলের নাগাল পাননি। উল্লেখ্য, ব্রাজিলের ঐতিহাসিক হলুদ জার্সিতে এটি ছিল ভিনিসিয়ুসের ক্যারিয়ারের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ, যা তিনি এক চোখধাঁধানো গোলের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখলেন।
প্রথমার্ধের শেষদিকের খেলায় মেজাজ হারিয়ে ব্রাজিলের মাঝমাঠের সেনানি কাসেমিরো ও ডিফেন্ডার ইবানিয়েজ হলুদ কার্ড দেখেন। বিরতির ঠিক আগে অতিরিক্ত সময়ে লুকাস পাকেতার একটি অসাধারণ অ্যাক্রোবেটিক সিজার কিক গোলরক্ষক বউনো অত্যন্ত দক্ষতার সাথে রুখে দিলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় ব্রাজিল। ফলে ১-১ গোলের সমতা নিয়েই প্রথমার্ধের বিরতিতে যায় দুই পরাশক্তি।
খেলার দ্বিতীয়ার্ধে কৌশলী ফুটবল খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় ব্রাজিল। দলের নতুন ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলোত্তি কার্ডের ঝুঁকিতে থাকা কাসেমিরো ও ইবানিয়েজকে মাঠ থেকে তুলে নিয়ে ফাবিনহো এবং দানিলোকে মাঠে নামান। এই পরিবর্তনের পর বলের দখল ও আক্রমণ সাজানোর ক্ষেত্রে মাঠজুড়ে সেলেসাওদের স্পষ্ট আধিপত্য দেখা যায়।
ম্যাচের ৬৭ মিনিটে গুইমারেসের এক দারুণ ক্রস থেকে রাফিনহা অল্পের জন্য গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর ৭৮ মিনিটে রাফিনহার নেওয়া আরেকটি শক্তিশালী শট দারুণভাবে রুখে দেন মরক্কোর ত্রাতা বউনো। অন্যদিকে ম্যাচের শেষভাগে মরক্কোর ধারালো আক্রমণগুলো নসাৎ করতে ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসনকেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করতে হয়েছিল।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) প্রযুক্তিও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্রাজিলের অনুকূলে যাওয়া একটি কর্নারের সিদ্ধান্ত ভিডিও রিপ্লে দেখে পরিবর্তন করেন মাঠের রেফারি, কারণ প্রযুক্তিতে দেখা যায় বলটি মাঠের বাইরে যাওয়ার আগে সর্বশেষ স্পর্শ করেছিলেন ব্রাজিলেরই এক খেলোয়াড়।
ম্যাচের সামগ্রিক পরিসংখ্যানেও দুই দলের তীব্র লড়াইয়ের বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেছে। প্রথমার্ধে মরক্কোর এক্সপেক্টেড গোল (xG) ছিল ১.২২, যেখানে ব্রাজিলের ছিল মাত্র ০.৮৫। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বল পজিশন ও আক্রমণে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত দুই দলের কেউই কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক গোলটি আদায় করতে না পারায় ম্যাচটি ১-১ ড্রতেই মীমাংসা হয়।
এই ড্রয়ের ফলে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-তে দুই দলের জন্যই পরবর্তী ম্যাচগুলোর সমীকরণ এখন অনেক বেশি কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গ্রুপে থাকা বাকি দুই দল হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় না পেলে এই গ্রুপ থেকে শীর্ষস্থান দখল করা ব্রাজিল ও মরক্কো—উভয় দলের জন্যই বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।




































