বাজেটে গরিব মাদের ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা’ সামাজিক সুরক্ষার পরবর্তী প্রজন্মের রূপকল্প
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / 15
সামনে বাজেট। তৃণমূলের মানুষেরা কি ভাবছে, কিছুদিন ধরে চিন্তা করছিলাম, গ্রামে গিয়ে জানবো। তাদের উৎপাদন ছাড়া কোন উপায় নাই। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সন্মানজনক একটা আয়ই তাদের প্রধান লক্ষ্য। কোথায় কে বাজেট বানাচ্ছে, তাতে কার কী লাভ, তাদের এসব চিন্তা করার সময় নাই। ইউনিয়নে এবার স্থানীয় বাজেট নিয়ে কোন আলোচনাও হয়নি! তবে ঢাকায় বড় বড় হোটেলে এ বিষয়ে খুব আলোচনা হয়েছে!
অনেকদিন পর টাঙ্গাইলের গোপালপুর গিয়েছিলাম। হেমনগর আর ঝাওয়াইল ইউনিয়ন ঘুরে দেখলাম। মনে হলো দারিদ্রতা কমলেও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন সরকারের জন্য দরিদ্র কমানো হবে বড় চ্যালেঞ্জ । এই উক্তিটি র্ডরপ’র উপনির্বাহী পরিচালক ও মেম্বার সেক্রেটারি, ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার এসোসিয়েশনের ( আই ডব্লিউএ) মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান এর চলতি বছরের ৪ জুন ফেসবুক পোষ্ট থেকে নেয়া।
এই ‘চ্যালেঞ্জ’ মোকাবেলা করতেই সরকার সকল ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি’কে একীভূত করে ফ্যামিলি কার্ড কেন্দ্রিক বাজেটের সহজ পাঠ রচনার এক প্রকৃষ্ট প্রায়োগিক কার্যক্রম শুরু করেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি তথা মাতৃত্বকালীন ভাতা আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ৩ বছর মেয়াদে ভাতা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতিইউনিয়নে গড়ে ৪১২ জন ভাতাভোগী দাঁড়ায়। এতে প্রতি মাসে ১৬১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ চ্যালেঞ্জিং উদ্যোগের জন্য সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানাই।
বাংলাদেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। মাঠপর্যায়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সরকারের মাতৃত্বকালীন ভাতার যোগ্যতার ৭ (সাত) মানদণ্ড বিবেচনায় একটি ইউনিয়নে প্রকৃত যোগ্য ও দরিদ্র গর্ভবতী মায়ের সংখ্যা গড়ে কমবেশী ৭০ জন। তাহলে প্রকৃত যোগ্য মায়ের তুলনায় ৩৪২ জন অতিরিক্ত ভাতাভোগী অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। সেই হিসাবে সারা দেশে সরকারের মা চিহ্নিতের শর্ত অনুযায়ী মোট যোগ্য মায়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ লাখ ২২ হাজার। অর্থাৎ বরাদ্দ আছে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার – ৩ লাখ ২২ হাজার = ১৫ লাখ ৭৩ হাজার মা অতিরিক্ত। হিসেব মতে প্রতি ইউনিয়নে ৭০ জন মা ধরে ৩ বছর মেয়াদে প্রত্যেক মা ৫ হাজার টাকা সহায়তা পেতে পারেন।
পক্ষান্তরে প্রতি ইউনিয়নে ৭০ জন মা ধরে ৫ বছর মেয়াদে প্রত্যেক মা ৩ হাজার টাকা সহায়তা পেতে পারেন। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের একজন শ্রমিকের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৮ হাজার টাকা। সেই প্রেক্ষাপটে একজন গর্ভবতী ও দরিদ্র মায়ের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা সহায়তাকে অস্বাভাবিক
বলা যায় না। কারণ মাতৃত্বকালীন ও পরবর্তী সময়ের জন্য একজন মায়ের পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত, ওষুধ এবং শিশুর প্রাথমিক যত্নের ব্যয় বিবেচনায় নিলে ৮৫০ টাকার তুলনায় ৫ হাজার টাকা অনেক বেশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সহায়তা। প্রয়োজনীয় সেবার ব্যয়ের তুলনায় এই অর্থ অত্যন্ত সীমিত। সরকার ও জনগণের কাছে পরিসংখ্যানগত সম্প্রসারণের তুলনায় বাস্তব ও সঠিক অবস্থা হিসেবেই বেশী গ্রহণযোগ্য।
তিন বছরের জন্য ভাতা দেওয়া হয়। একজন শিশুর শারীরিক, মানসিক, জ্ঞানগত, বিনোদন ও সংস্কৃতি, বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রথম পাঁচ বছর। সেজন্য শর্তযুক্ত ভাতার মেয়াদ তিন বছর থেকে বিকল্প ভাবে পাঁচ বছর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা। বরাদ্দকৃত বাজেটেই প্রতি মাসে মা প্রতি ৩ হাজার টাকা দেয়া সম্ভব। প্রস্তাবিত ৫ বছর মেয়াদে পরিবারকে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষা কার্ড প্রদান করা যেতে পারে। একই সঙ্গে শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করার শর্তে শিশু-শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব হবে।
এতে ঝরে পরা থাকবে না। শতভাগ শিক্ষার লক্ষ্য অর্জন হবে। শিশুরা শিক্ষা ব্যাবস্থার মূলধারাতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক হবে। ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ হস্তান্তর করলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে-স্থানে কার্ড প্রদর্শনে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হবে।
যদি এটা না করা হয়, তবে ভাতার শর্ত মানদন্ডে অতিরিক্ত ১৫ লাখ ৭৩ হাজার মা ও তদযুক্ত অতিরিক্ত টাকা সবটাই বেহাত হবে। সরকারের দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে সুন্দর ও সুপরিকল্পিত একটি পরীক্ষিত কাঠামো ভেস্তে যাবে। ভবিষ্যৎ সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার ভিত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর পেশকৃত প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬ এর সংযোজন বিয়োজন করার কাজ অব্যহত আছে – বলেন। ২০০৫-০৬ সাল থেকেই গরীব মা’দের মাতৃত্বকালীন ভাতা চলমান।
দীর্ঘ দেড় যুগ পর, তৎকালীন সরকার কি কারণে ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা’কে ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র নাম কেন বদলিয়েছেন, আমাদের জানা নাই। ‘মা ও মাতৃত্ব’ অবশ্যই এক কথা নয়। তাই বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কে মূল নাম’র সাথে সংগতি রেখে ‘মাতৃত্ব ও শিশু সহায়তা’ কর্মসূচি নামকরণের বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।
সরকারের কাছে বিনীত আবেদন, ‘মা ও শিশু সহায়তা’র নাম বদলিয়ে মাতৃত্ব ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির ভাতাভোগী সংখ্যা, ভাতার পরিমাণ এবং মেয়াদ নতুন করে পর্যালোচনা করা হোক। সরকারের লক্ষ্য সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ সামাজিক উন্নয়ন গতি নিশ্চিত করা। এ প্রেক্ষিতে বাজেটের সহজ পাঠে সহজ হিসাব দাঁড়ায়ঃ
* বাজেট মাসিক ১৬১ কোটি টাকা যা বছরে ১৯৩২ কোটি টাকা বহাল রাখা।
* মা সংখ্যা প্রতি ইউনিয়নে ৭০ জন নির্ধারন করা।
* মাসিক ভাতার পরিমাণ ৩ বছর মেয়াদে ৫ হাজার টাকা প্রদান করা।
বা মাসিক ভাতার পরিমাণ ৫ বছর মেয়াদে ৩ হাজার টাকা প্রদান করা।
* গরীব মা’র মাতৃত্ব ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি নাম পুনর্বহাল করা। বিপরীতে মা ও শিশু সহায়তা
কর্মসূচি নাম বাতিল করা।
আবেগ এবং স্বপ্ন না থাকলে সৃষ্টি হয় না। এ থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রবর্তিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি এই সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের একটি কার্যকর ভিত্তি হতে যাচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ডকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা, বসত ঘর, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা বাগুলোকে একীভূত করা গেলে বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ আরও সুগম হবে।
একীভূত ফ্যামিলি কার্ডভিত্তিক তারেক জিয়ার ‘হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়নই হতে পারে সামাজিক সুরক্ষার পরবর্তী প্রজন্মের রূপকল্প।





































