ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাকাশ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • / 138

ভবিষ্যতের যুদ্ধের প্রস্তুতিতে মহাকাশকে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র (‘স্পেস ওয়ার’ ) হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সেনাবাহিনীর শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সক্ষমতা, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা শক্তিশালী করেই ভবিষ্যতের সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ইসরায়েলি দৈনিক দ্য জেরুজালেম পোস্ট-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আইডিএফের প্রযুক্তি ও ডিজিটাল বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়ায়েল গ্রসম্যান বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধে টিকে থাকতে মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। তার ভাষায়, যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে এবং তথ্য, যোগাযোগ ও নজরদারিতে মহাকাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি জানান, ইসরায়েল প্রায় ৪৫ বছর ধরে মহাকাশ কর্মসূচিতে কাজ করছে। বর্তমানে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও নজরদারি সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫ সালে ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের অভিযানে ১২ হাজারের বেশি এবং ২০২৬ সালের যুদ্ধে ৫০ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য উল্লেখ করেন তিনি।

গ্রসম্যান বলেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি তথ্য আদান-প্রদান ও নতুন সামরিক দায়িত্ব পালনের জন্য উন্নত স্যাটেলাইট এবং একাধিক পেলোড ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্যাটেলাইটে হামলা, জ্যামিং ও মহাকাশভিত্তিক হুমকির বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, মহাকাশের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্য বিশ্লেষণও আইডিএফের আধুনিকায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সেনাবাহিনীর সাইবার ও যোগাযোগ কাঠামো পুনর্গঠন করে এআই-কেন্দ্রিক নতুন ব্রিগেড এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

আইডিএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া প্রায় ১ হাজার ১০০ ড্রোনের প্রায় ২৫ শতাংশ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সক্ষমতার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছিল।

গ্রসম্যান বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও দ্রুত আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিমান বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থলবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। এতে দূরবর্তী এলাকাতেও দ্রুত সামরিক অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধ শুধু প্রচলিত অস্ত্রের ওপর নির্ভর করবে না; বরং তথ্য, এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, সাইবার সক্ষমতা এবং মহাকাশ প্রযুক্তির সমন্বয়ই সামরিক সাফল্য নির্ধারণ করবে।

ড্রোন হুমকি মোকাবিলায়ও আইডিএফ নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে জানান গ্রসম্যান। তার দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বহু সেনার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে এফপিভি (FPV) ড্রোনের মতো নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় এখনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান তৈরি হয়নি।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মহাকাশ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ভবিষ্যতের যুদ্ধের প্রস্তুতিতে মহাকাশকে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র (‘স্পেস ওয়ার’ ) হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সেনাবাহিনীর শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সক্ষমতা, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা শক্তিশালী করেই ভবিষ্যতের সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

ইসরায়েলি দৈনিক দ্য জেরুজালেম পোস্ট-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আইডিএফের প্রযুক্তি ও ডিজিটাল বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়ায়েল গ্রসম্যান বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধে টিকে থাকতে মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। তার ভাষায়, যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে এবং তথ্য, যোগাযোগ ও নজরদারিতে মহাকাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি জানান, ইসরায়েল প্রায় ৪৫ বছর ধরে মহাকাশ কর্মসূচিতে কাজ করছে। বর্তমানে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও নজরদারি সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫ সালে ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের অভিযানে ১২ হাজারের বেশি এবং ২০২৬ সালের যুদ্ধে ৫০ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য উল্লেখ করেন তিনি।

গ্রসম্যান বলেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি তথ্য আদান-প্রদান ও নতুন সামরিক দায়িত্ব পালনের জন্য উন্নত স্যাটেলাইট এবং একাধিক পেলোড ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্যাটেলাইটে হামলা, জ্যামিং ও মহাকাশভিত্তিক হুমকির বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, মহাকাশের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্য বিশ্লেষণও আইডিএফের আধুনিকায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সেনাবাহিনীর সাইবার ও যোগাযোগ কাঠামো পুনর্গঠন করে এআই-কেন্দ্রিক নতুন ব্রিগেড এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

আইডিএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া প্রায় ১ হাজার ১০০ ড্রোনের প্রায় ২৫ শতাংশ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সক্ষমতার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছিল।

গ্রসম্যান বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও দ্রুত আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিমান বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থলবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। এতে দূরবর্তী এলাকাতেও দ্রুত সামরিক অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধ শুধু প্রচলিত অস্ত্রের ওপর নির্ভর করবে না; বরং তথ্য, এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, সাইবার সক্ষমতা এবং মহাকাশ প্রযুক্তির সমন্বয়ই সামরিক সাফল্য নির্ধারণ করবে।

ড্রোন হুমকি মোকাবিলায়ও আইডিএফ নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে জানান গ্রসম্যান। তার দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বহু সেনার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে এফপিভি (FPV) ড্রোনের মতো নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় এখনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান তৈরি হয়নি।