বিশ্ববাজারে ফের তেলের দাম বৃদ্ধি
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
- / 99
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় বিশ্ববাজারে ফের অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
রবিবার (১০ মে) ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ৩.১৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৫০ ডলারে পৌঁছেছে। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের পাশাপাশি মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দামও ৩.২১ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে মার্কিন তেলের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৮.৪৮ ডলারে। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, যা বন্ধ থাকলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও সামরিক হুমকি: জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর ফলে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ সংকীর্ণ হয়ে গেছে।
এদিকে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তাদের জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে সমস্যার সম্মুখীন হবে। মূলত এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিই বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করছে।
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি: মার্কিন বাহিনী সম্প্রতি অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে দুটি ইরানি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে, যা উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমেরিকানদের পকেটে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্যমতে, দেশটিতে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম এখন ৪.৫২ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ৩ ডলারের কম ছিল। পরিশেষে বলা যায়, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রশমিত না হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি বজায় থাকবে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।






























