প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৯ দফা দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 10
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
হেফাজতের মহাসচিবের দেওয়া অভিনন্দনপত্রে দাবিগুলো তুলে ধরা হয়। এতে মহান আল্লাহ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন না করার কথাও বলা হয়েছে।
হেফাজতের ৯ দাবি
১. আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন।
২. কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।
৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা।
৪. কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা।
৫. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
৬. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা।
৭. পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা।
৮. আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলেমদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেমদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৯. টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করা, ভারতের মাওলানা সাদের বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া।
অভিনন্দনপত্রে ফটিকছড়িকে দেশের দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামি সংস্কার ও আধ্যাত্মিক সাধনার ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বাবুনগর মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
এতে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও সাবেক আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি ইসলাম ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিভিন্ন আন্দোলনে আলেম সমাজের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিনন্দনপত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলেম-ওলামা ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়।
শেষে প্রধানমন্ত্রীর ফটিকছড়ি সফরকে দ্বীন ও রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে স্বাবলম্বী, ন্যায়ভিত্তিক ও নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানানো হয়।
































