প্রসূতি বিভাগে তালা, অটোরিকশায় প্রসব
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 156
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি বিভাগের কক্ষ তালাবদ্ধ থাকায় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা প্রসববেদনায় কাতরানোর পর হাসপাতাল থেকে বের হয়ে অন্যত্র যাওয়ার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সন্তান প্রসব করেছেন এক নারী।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মান ও দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক-নার্সদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী রঞ্জনা খাতুন রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা দিঘর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী স্থানীয় একটি হোটেলে দিনমজুরের কাজ করেন।
স্বজনদের ভাষ্য, শনিবার রাত ৮টার দিকে প্রসববেদনা শুরু হলে রঞ্জনাকে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগ থেকে তাকে প্রসূতি বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে স্বজনরা দেখতে পান, প্রসূতি বিভাগের কক্ষটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ। ডিউটি রোস্টারে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক বা মিডওয়াইফকেও সেখানে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
স্বজনরা জানান, এ সময় রঞ্জনার গর্ভের পানি ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি রক্তক্ষরণও হচ্ছিল। তীব্র যন্ত্রণায় তিনি হাসপাতালের বারান্দায় কাতরাচ্ছিলেন। চিকিৎসাসেবার জন্য বারবার অনুরোধ করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। বরং অন্য ওয়ার্ডের কয়েকজন নার্সের কাছ থেকে দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন স্বজনরা।
রঞ্জনার দেবর জাকারিয়া হোসেন বলেন, ‘ভাবি দাঁড়াতেও পারছিলেন না, বসতেও পারছিলেন না। চারপাশ রক্ত ও পানিতে ভেসে যাচ্ছিল। প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টা ধরে চিকিৎসার জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি।’
পরে রঞ্জনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে বগুড়ার শেরপুরের একটি হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রওনা হওয়ার পর পথেই সন্তান প্রসব করেন রঞ্জনা। অটোরিকশার ভেতর গাদাগাদি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশেই শিশুটির জন্ম হয়।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা না বলতে প্রসূতির পরিবারকে স্থানীয় কয়েকজন ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এএফএম ওবায়দুল ইসলামের বক্তব্য জানতে রোববার বিকেলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন ছুটিতে থাকায় দায়িত্বে থাকা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তাসলিমা জান্নাত বলেন, বিষয়টি সকালে জানতে পেরেছেন তারা। হাসপাতাল থেকে তাকে জানানো হয়েছে, দায়িত্বে অবহেলার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় একজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে অটোরিকশায় সন্তান প্রসবের বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ঘটনার পর রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের দাবি, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে বিষয়টি শেষ না করে ভবিষ্যতে যাতে কোনো প্রসূতিকে চিকিৎসাসেবা ছাড়া হাসপাতালে পড়ে থাকতে না হয়, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

































