ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদলের ১০ জনকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠাল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 12

ছাত্রদলের ১০ জনকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠাল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ

একটি কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পীসহ ১০ নেতাকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পী, তার বড় ভাই রাজিব হোসেন, আব্দুর রকিব, বকুল হায়দার, জাহিদ হাসান, ছাত্রদল নেতা আব্দুস সালাম, তহিদুল হোসেন ও মাহামুদুল হাসান।

হামলায় আহত মনজুরুল আলম বাপ্পীর অভিযোগ, ঘোনা এলাকার ছাত্রলীগ নেতা মো. নাজমুল হাসানের একটি কল রেকর্ড শনিবার তাদের হাতে আসে। ওই রেকর্ডে ছাত্রদলের এক নেতা ও বিএনপিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি জানতে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন নাজমুলের কাছে গেলে তাকে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

পরে জাহিদকে আটকে রাখার খবর পেয়ে বাপ্পী কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান বলে তিনি দাবি করেন। হামলায় বাঁশের লাঠি ও লোহার রড ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ তার।

বাপ্পীর দাবি, হামলায় তিনি ছাড়াও আরও নয়জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহত ছাত্রদল নেতা আব্দুস সালাম বলেন, ঘোনা ইউনিয়নের একটি বৈঠক থেকে বের হওয়ার পর ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেনকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পীসহ ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী সেখানে যান। পরে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা মো. নাজমুল হাসান ও তার বাবা লাল্টু মেম্বারের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা হয় বলে তারা জানান।

এদিকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু রায়হান অভিযোগ করেন, স্থানীয় জামায়াতের ‘শেল্টারে’ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দুদায়েভ মাসুদ অর্ঘও হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি করেন। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাহিদ হাসান ডাবলুও ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ছাত্রদলের ১০ জনকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠাল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

একটি কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পীসহ ১০ নেতাকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পী, তার বড় ভাই রাজিব হোসেন, আব্দুর রকিব, বকুল হায়দার, জাহিদ হাসান, ছাত্রদল নেতা আব্দুস সালাম, তহিদুল হোসেন ও মাহামুদুল হাসান।

হামলায় আহত মনজুরুল আলম বাপ্পীর অভিযোগ, ঘোনা এলাকার ছাত্রলীগ নেতা মো. নাজমুল হাসানের একটি কল রেকর্ড শনিবার তাদের হাতে আসে। ওই রেকর্ডে ছাত্রদলের এক নেতা ও বিএনপিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি জানতে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন নাজমুলের কাছে গেলে তাকে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

পরে জাহিদকে আটকে রাখার খবর পেয়ে বাপ্পী কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান বলে তিনি দাবি করেন। হামলায় বাঁশের লাঠি ও লোহার রড ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ তার।

বাপ্পীর দাবি, হামলায় তিনি ছাড়াও আরও নয়জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহত ছাত্রদল নেতা আব্দুস সালাম বলেন, ঘোনা ইউনিয়নের একটি বৈঠক থেকে বের হওয়ার পর ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেনকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পীসহ ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী সেখানে যান। পরে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা মো. নাজমুল হাসান ও তার বাবা লাল্টু মেম্বারের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা হয় বলে তারা জানান।

এদিকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু রায়হান অভিযোগ করেন, স্থানীয় জামায়াতের ‘শেল্টারে’ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দুদায়েভ মাসুদ অর্ঘও হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি করেন। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাহিদ হাসান ডাবলুও ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।