ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী আন্দোলন শক্তিশালী করতে আর্ট থেরাপি কর্মশালা

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 12

নারী আন্দোলন শক্তিশালী করতে আর্ট থেরাপি কর্মশালা

নারী, কন্যাশিশু ও লিঙ্গবৈচিত্র্যময় মানুষ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শারীরিক, মানসিক ও যৌন সহিংসতার শিকার হন। এসব নির্যাতনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে, যা পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতায় মানসিক সুস্থতা ও আত্মপ্রকাশের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে ‘আর্ট থেরাপি’।

‘আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন শক্তিশালী করি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও বহ্নিশিখার যৌথ উদ্যোগে ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য ও আর্ট থেরাপি বিষয়ক একটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউএন উইমেন বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালা রাজধানীর দ্বীপ গ্যালারিতে দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে।

কর্মশালায় বিভিন্ন বয়স ও পেশার ৪৩ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। সেশন পরিচালনা করেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রেহনুমা হক ও সুষমা অনন্যা। আয়োজন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে সম্ভব ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের সদস্যরা।

সেশনে অংশগ্রহণকারীরা শিল্পচর্চার মাধ্যমে নারী ও লিঙ্গবৈচিত্র্যময় মানুষের প্রতি সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য, সহিংসতা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নানা দিক সৃজনশীলভাবে তুলে ধরেন। বক্তারা আর্ট থেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি শুধু মানসিক চাপ ও ট্রমা মোকাবিলায় সহায়ক নয়, বরং নিজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা প্রকাশেরও একটি নিরাপদ ও কার্যকর মাধ্যম। এটি মানুষের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্মশালার অংশ হিসেবে বিকেল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অংশগ্রহণকারীদের আঁকা চিত্রকর্মের একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে তাদের শিল্পকর্মে ব্যক্তিগত স্মৃতি, মানসিক যন্ত্রণা, ভয়, আশা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ফুটে ওঠে।

‘আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন শক্তিশালী করি’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশজুড়ে বিভিন্ন পেশা ও প্রজন্মের নারী অধিকারকর্মী, সামাজিক আন্দোলনকর্মী এবং পেশাজীবীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী যৌথ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ, স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে নারী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নারী আন্দোলন শক্তিশালী করতে আর্ট থেরাপি কর্মশালা

সর্বশেষ আপডেট ০৩:০৯:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

নারী, কন্যাশিশু ও লিঙ্গবৈচিত্র্যময় মানুষ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শারীরিক, মানসিক ও যৌন সহিংসতার শিকার হন। এসব নির্যাতনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে, যা পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এই বাস্তবতায় মানসিক সুস্থতা ও আত্মপ্রকাশের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে ‘আর্ট থেরাপি’।

‘আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন শক্তিশালী করি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও বহ্নিশিখার যৌথ উদ্যোগে ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য ও আর্ট থেরাপি বিষয়ক একটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউএন উইমেন বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালা রাজধানীর দ্বীপ গ্যালারিতে দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে।

কর্মশালায় বিভিন্ন বয়স ও পেশার ৪৩ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। সেশন পরিচালনা করেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রেহনুমা হক ও সুষমা অনন্যা। আয়োজন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে সম্ভব ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের সদস্যরা।

সেশনে অংশগ্রহণকারীরা শিল্পচর্চার মাধ্যমে নারী ও লিঙ্গবৈচিত্র্যময় মানুষের প্রতি সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য, সহিংসতা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নানা দিক সৃজনশীলভাবে তুলে ধরেন। বক্তারা আর্ট থেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি শুধু মানসিক চাপ ও ট্রমা মোকাবিলায় সহায়ক নয়, বরং নিজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা প্রকাশেরও একটি নিরাপদ ও কার্যকর মাধ্যম। এটি মানুষের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্মশালার অংশ হিসেবে বিকেল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অংশগ্রহণকারীদের আঁকা চিত্রকর্মের একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে তাদের শিল্পকর্মে ব্যক্তিগত স্মৃতি, মানসিক যন্ত্রণা, ভয়, আশা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ফুটে ওঠে।

‘আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন শক্তিশালী করি’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশজুড়ে বিভিন্ন পেশা ও প্রজন্মের নারী অধিকারকর্মী, সামাজিক আন্দোলনকর্মী এবং পেশাজীবীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী যৌথ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ, স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে নারী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।