কাশিমপুর ভূমি অফিসের সবাই বরখাস্ত
- সর্বশেষ আপডেট ০২:১৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 108
অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগে গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদারসহ চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে আকস্মিক পরিদর্শনের সময় এ সিদ্ধান্ত নেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কবির ভূঁইয়া।
জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে কাশিমপুর ভূমি অফিসে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ শোনেন এবং অফিসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তহশিলদার ওয়াজেদ আলী খানসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নামজারি, খারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, জমির রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা দিতে ঘুষ দাবি, দায়িত্বে অবহেলা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘গাজীপুর জেলার সব ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে’, এমন তথ্য সঠিক নয় বলে স্পষ্ট করেছে জেলা প্রশাসন। তাদের ভাষ্য, ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। জেলার অন্য সব ভূমি অফিসে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে কাশিমপুর ভূমি অফিসে বিকল্প কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই ভূমি অফিসে অতিরিক্ত অর্থ দাবি, দালালের প্রভাব এবং ফাইল নিষ্পত্তিতে অস্বাভাবিক বিলম্বের অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে তারা সন্তোষ প্রকাশ করলেও ভূমি সেবায় স্থায়ীভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে আরও অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলার অন্যান্য ভূমি অফিসের কার্যক্রমও নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা হচ্ছে।

































