ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নামাজ চলাকালে মসজিদে গুলি, ২ মুসল্লি গুলিবিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:২৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 7

নামাজ চলাকালে মসজিদে হামলা

খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকায় অত্যন্ত বর্বরোচিত এক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ফজরের নামাজ চলাকালীন একটি মসজিদে ঢুকে দুর্বৃত্তদের চালানো এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ২ জন মুসল্লি গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আজ রবিবার (১৪ জুন) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মহানগরের পশ্চিম কাশিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদের ভেতরে এই সুপরিকল্পিত ও চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনাটি ঘটে।

সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের সরাসরি ছোড়া গুলিতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির বর্তমান সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) এবং আলম মন্ডল (৫৫) নামের এক সাধারণ মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত হন। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিম উত্তর কাশিপুর এলাকার মৃত জব্বার শেখের ছেলে এবং আলম মন্ডল একই এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মসজিদে তখন পবিত্র ফজরের জামাত ও নামাজ আদায়ের প্রক্রিয়া চলছিল। ঠিক সেই সময়ে আচমকা কয়েকজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত মসজিদের ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং সরাসরি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি ছোঁড়ে। এই সময় লোকমানের ঠিক পাশে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য মুসল্লি আলম মন্ডলও দুর্ভাগ্যবশত গুলিবিদ্ধ হন। দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া বুলেটের আঘাতে লোকমান হাকিমের মাথায় গুরুতর জখম হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও সংকটাপন্ন হওয়ায় স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে রাজধানী ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

অন্য দিকে, হামলায় আক্রান্ত অপর মুসল্লি আলম মন্ডলের মাথায়, গলার বাম পাশে এবং ডান হাতের বাহুতে একাধিক গুলি লেগেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) নিয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি খুমেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে নামাজ চলাকালীন এমন দুর্ধর্ষ ও স্পর্শকাতর হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার মো. আব্দুর রাজ্জাক সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশের বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঠিক কী কারণে এই জঘন্য হামলা চালানো হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তাদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ইতিমধ্যেই সর্বাত্মক তদন্ত শুরু করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নামাজ চলাকালে মসজিদে গুলি, ২ মুসল্লি গুলিবিদ্ধ

সর্বশেষ আপডেট ১১:২৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকায় অত্যন্ত বর্বরোচিত এক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ফজরের নামাজ চলাকালীন একটি মসজিদে ঢুকে দুর্বৃত্তদের চালানো এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ২ জন মুসল্লি গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আজ রবিবার (১৪ জুন) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মহানগরের পশ্চিম কাশিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদের ভেতরে এই সুপরিকল্পিত ও চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনাটি ঘটে।

সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের সরাসরি ছোড়া গুলিতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির বর্তমান সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) এবং আলম মন্ডল (৫৫) নামের এক সাধারণ মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত হন। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিম উত্তর কাশিপুর এলাকার মৃত জব্বার শেখের ছেলে এবং আলম মন্ডল একই এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মসজিদে তখন পবিত্র ফজরের জামাত ও নামাজ আদায়ের প্রক্রিয়া চলছিল। ঠিক সেই সময়ে আচমকা কয়েকজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত মসজিদের ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং সরাসরি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি ছোঁড়ে। এই সময় লোকমানের ঠিক পাশে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য মুসল্লি আলম মন্ডলও দুর্ভাগ্যবশত গুলিবিদ্ধ হন। দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া বুলেটের আঘাতে লোকমান হাকিমের মাথায় গুরুতর জখম হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও সংকটাপন্ন হওয়ায় স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে রাজধানী ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

অন্য দিকে, হামলায় আক্রান্ত অপর মুসল্লি আলম মন্ডলের মাথায়, গলার বাম পাশে এবং ডান হাতের বাহুতে একাধিক গুলি লেগেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) নিয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি খুমেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে নামাজ চলাকালীন এমন দুর্ধর্ষ ও স্পর্শকাতর হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার মো. আব্দুর রাজ্জাক সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশের বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঠিক কী কারণে এই জঘন্য হামলা চালানো হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তাদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ইতিমধ্যেই সর্বাত্মক তদন্ত শুরু করেছে।