ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেই একসঙ্গে বকেয়া বেতন

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৯:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 15

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেই একসঙ্গে বকেয়া বেতন

নবম জাতীয় পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার ঘোষণা থাকলেও এখনো এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আপাতত আগের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। তবে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে জুলাই মাস থেকে প্রাপ্য অতিরিক্ত অর্থ একসঙ্গেই বকেয়া (এরিয়ার) হিসেবে পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে হিসাব করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন, বিভিন্ন ক্যাডার ও খাতভিত্তিক পৃথক আদেশ প্রস্তুত, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং, বিধিবদ্ধ আদেশ (এসআরও) নম্বর গ্রহণ এবং সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন প্রকাশসহ কয়েকটি বাধ্যতামূলক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়ায় প্রজ্ঞাপন জারিতে কিছুটা সময় লাগছে।

গত বুধবার সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে বিষয়টি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে আর্থিক সক্ষমতা ও রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আইএমএফের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ভর্তুকি এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক খাতে সরকারের ব্যয় দ্রুত বাড়লেও সেই তুলনায় রাজস্ব আয় প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। এ অবস্থায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে সংস্থাটি মত দিয়েছে।

এ কারণে আইএমএফ নতুন পে-স্কেল অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। আগামী অক্টোবরে আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময় বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে একাধিক ধাপ অনুসরণ করতে হয়। কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা পর্যালোচনার জন্য সচিব কমিটি গঠন করা হয়। পরে কমিটির সুপারিশ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই প্রজ্ঞাপন জারি এবং নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা সম্ভব হয়।

সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাওয়ার পাশাপাশি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত বেতনের পুরো বকেয়া অর্থও এককালীন এরিয়ার হিসেবে হাতে পাবেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেই একসঙ্গে বকেয়া বেতন

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৯:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

নবম জাতীয় পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার ঘোষণা থাকলেও এখনো এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আপাতত আগের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। তবে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে জুলাই মাস থেকে প্রাপ্য অতিরিক্ত অর্থ একসঙ্গেই বকেয়া (এরিয়ার) হিসেবে পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে হিসাব করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন, বিভিন্ন ক্যাডার ও খাতভিত্তিক পৃথক আদেশ প্রস্তুত, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং, বিধিবদ্ধ আদেশ (এসআরও) নম্বর গ্রহণ এবং সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন প্রকাশসহ কয়েকটি বাধ্যতামূলক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়ায় প্রজ্ঞাপন জারিতে কিছুটা সময় লাগছে।

গত বুধবার সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে বিষয়টি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে আর্থিক সক্ষমতা ও রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আইএমএফের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ভর্তুকি এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক খাতে সরকারের ব্যয় দ্রুত বাড়লেও সেই তুলনায় রাজস্ব আয় প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। এ অবস্থায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে সংস্থাটি মত দিয়েছে।

এ কারণে আইএমএফ নতুন পে-স্কেল অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। আগামী অক্টোবরে আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময় বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে একাধিক ধাপ অনুসরণ করতে হয়। কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা পর্যালোচনার জন্য সচিব কমিটি গঠন করা হয়। পরে কমিটির সুপারিশ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই প্রজ্ঞাপন জারি এবং নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা সম্ভব হয়।

সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন পাওয়ার পাশাপাশি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত বেতনের পুরো বকেয়া অর্থও এককালীন এরিয়ার হিসেবে হাতে পাবেন।