বেতন বাড়বে ভিন্ন হারে, আসছে নতুন পে-স্কেল
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
- / 75
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে আর্থিক ও প্রশাসনিক হিসাব মেলাতে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি সরকার। তবে নতুন কাঠামোয় প্রচলিত সমান হারের ইনক্রিমেন্ট থেকে সরে এসে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের কাজ এগোতে থাকলেও বেতন, ইনক্রিমেন্ট ও ভাতা কাঠামো নিয়ে জটিলতায় পড়েছে বাস্তবায়ন-সংশ্লিষ্ট সচিব কমিটি। বেতন কমিশনের সুপারিশ, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে নতুন কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে সব গ্রেডে গড়ে ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার পরিবর্তে নতুন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব রয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল থাকবে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কাঠামোয় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।
নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হতে পারে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে সরকারের পরিচালিত এক জরিপে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩ প্রতিষ্ঠানের প্রধান অংশ নেন। জরিপে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বর্তমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দেন। বিপরীতে ৫০ দশমিক ৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির সমন্বয় এবং ৩১ দশমিক ৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পক্ষে মত দেন। এছাড়া ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরও বাড়ানোর সুপারিশ করেন।
গত ৬ জুলাই সচিব কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আরও অন্তত দুটি বৈঠকের পর সুপারিশ অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। এরপর সরকারের অনুমোদন মিললে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গেজেট প্রকাশ, প্রশাসনিক আদেশ এবং সফটওয়্যার হালনাগাদসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে জুলাই থেকে প্রাপ্য বর্ধিত বেতন-ভাতার বকেয়া অক্টোবর মাসে একসঙ্গে পরিশোধের সম্ভাবনা রয়েছে।
বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হলেও সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭.৫ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.৪।
নতুন কাঠামো কার্যকর হলে বর্তমানে ২০তম গ্রেডে বেতন-ভাতা মিলিয়ে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পাওয়া কর্মচারীদের মাসিক আয় প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় উন্নীত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
































