ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কমবে-বাড়বে যেসব পণ্যের দাম

দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় মেগা করছাড় আসন্ন বাজেটে

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / 97

দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় মেগা করছাড়

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, স্থানীয় উৎপাদন সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বড় ধরনের মেগা করছাড়ের সুবিধা নিয়ে আসছে সরকার। এই নীতিমালার আওতায় কেবল আয়করেই নয়, বরং ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) এবং কাঁচামাল আমদানির শুল্ক-করেও বিশাল ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের উদীয়মান ইলেকট্রনিক্স খাতকে এই বাজেটে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে কর অব্যাহতি সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ থেকে বাড়িয়ে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করার জোরালো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে দেশে উৎপাদিত টেলিভিশন, এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিনসহ সব ধরনের গৃহস্থালি পণ্যের ভ্যাট বর্তমানের ১৫ শতাংশ থেকে এক লাফে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হচ্ছে। একই সাথে দেশে তৈরি ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর ও মোবাইল সেটের ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বজায় রাখা এবং এগুলোর ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ ও ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ১ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম বাজারে উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে।

সুখবর ওষুধ, গাড়ি, স্বর্ণ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য

আসন্ন বাজেটে দেশের ডিজিটাল মাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য অত্যন্ত বড় ও আনন্দের একটি সুখবর আসছে। বর্তমানে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর প্রযোজ্য থাকা সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট এবং ৭ শতাংশ আয়কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধ তৈরির ৬৮ ধরনের কাঁচামাল আমদানির সম্পূরক শুল্ক, হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ১০ শতাংশ ভ্যাট এবং ক্যান্সারের ৯ ধরনের ওষুধ আমদানিতে বড় কর রেয়াত দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ কমাতে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানির ৫ শতাংশ আগাম করও তুলে নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে প্রতিবার ডায়ালাইসিসে অন্তত ৬০০ টাকা পর্যন্ত খরচ কমে আসবে।

যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে
যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধান, চাল, ডাল, তেলবীজ, আলু, পেঁয়াজসহ ৬০টি মৌলিক ভোগ্যপণ্যের উৎসে কর কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরিবহণ ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে ইলেকট্রিক গাড়ি (EV) ও ই-বাইক উৎপাদনে কর রেয়াত দেওয়া হবে এবং ১৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন হাইব্রিড গাড়ি আমদানির নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (आरडी) প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া স্বর্ণালঙ্কার খাতে ভ্যাট ব্যবস্থা সহজ করে প্রতি ভরিতে নির্দিষ্ট হারে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হতে পারে, যা বর্তমানে প্রযোজ্য ৫ শতাংশ ভ্যাটের তুলনায় অনেক কম। মোবাইল সিমের ওপর থাকা ৩০০ টাকা করও পুরোপুরি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে সিমের দাম কমবে।

সুরক্ষার কোপে যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে

অন্যদিকে, দেশীয় খামারি ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং তামাক-বিলাসী দ্রব্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে বেশ কিছু আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক-কর বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হওয়ায় স্থানীয় ফলের সুরক্ষায় কাজু বাদাম আমদানির শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে এক লাফে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। এ ছাড়া পাঙাস মাছের ফিলেট আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং উচ্চ মূল্যের দামি হিমায়িত মাছ আমদানিতে নতুন করে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানো হচ্ছে।

যেসব পন্যের দাম বাড়তে পারে
যেসব পন্যের দাম বাড়তে পারে

তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমাতে প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম ৫ থেকে ৭ টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর কাঁচামাল যেমন—সিগারেট পেপার আমদানিতে ৩০০ শতাংশ ও নিকোটিনে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মাদক ও বিলাসী পণ্যের লাগাম টানতে বিদেশি মদের পাশাপাশি দেশীয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মদে প্রতি লিটারে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে, যার ফলে সব ধরনের মদের দাম বাড়বে। এ ছাড়া দেশের আবাসন খাতের অন্যতম অনুষঙ্গ মাইল্ড স্টিল (এমএস রড) এবং এ জাতীয় পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর ও ভ্যাট প্রায় ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে বাজারে রডের দাম বাড়তে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কমবে-বাড়বে যেসব পণ্যের দাম

দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় মেগা করছাড় আসন্ন বাজেটে

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, স্থানীয় উৎপাদন সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বড় ধরনের মেগা করছাড়ের সুবিধা নিয়ে আসছে সরকার। এই নীতিমালার আওতায় কেবল আয়করেই নয়, বরং ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) এবং কাঁচামাল আমদানির শুল্ক-করেও বিশাল ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের উদীয়মান ইলেকট্রনিক্স খাতকে এই বাজেটে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে কর অব্যাহতি সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ থেকে বাড়িয়ে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করার জোরালো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে দেশে উৎপাদিত টেলিভিশন, এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিনসহ সব ধরনের গৃহস্থালি পণ্যের ভ্যাট বর্তমানের ১৫ শতাংশ থেকে এক লাফে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হচ্ছে। একই সাথে দেশে তৈরি ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর ও মোবাইল সেটের ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বজায় রাখা এবং এগুলোর ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ ও ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ১ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম বাজারে উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে।

সুখবর ওষুধ, গাড়ি, স্বর্ণ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য

আসন্ন বাজেটে দেশের ডিজিটাল মাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য অত্যন্ত বড় ও আনন্দের একটি সুখবর আসছে। বর্তমানে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ের ওপর প্রযোজ্য থাকা সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট এবং ৭ শতাংশ আয়কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধ তৈরির ৬৮ ধরনের কাঁচামাল আমদানির সম্পূরক শুল্ক, হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ১০ শতাংশ ভ্যাট এবং ক্যান্সারের ৯ ধরনের ওষুধ আমদানিতে বড় কর রেয়াত দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ কমাতে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানির ৫ শতাংশ আগাম করও তুলে নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে প্রতিবার ডায়ালাইসিসে অন্তত ৬০০ টাকা পর্যন্ত খরচ কমে আসবে।

যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে
যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধান, চাল, ডাল, তেলবীজ, আলু, পেঁয়াজসহ ৬০টি মৌলিক ভোগ্যপণ্যের উৎসে কর কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরিবহণ ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে ইলেকট্রিক গাড়ি (EV) ও ই-বাইক উৎপাদনে কর রেয়াত দেওয়া হবে এবং ১৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন হাইব্রিড গাড়ি আমদানির নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (आरडी) প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া স্বর্ণালঙ্কার খাতে ভ্যাট ব্যবস্থা সহজ করে প্রতি ভরিতে নির্দিষ্ট হারে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হতে পারে, যা বর্তমানে প্রযোজ্য ৫ শতাংশ ভ্যাটের তুলনায় অনেক কম। মোবাইল সিমের ওপর থাকা ৩০০ টাকা করও পুরোপুরি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে সিমের দাম কমবে।

সুরক্ষার কোপে যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে

অন্যদিকে, দেশীয় খামারি ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং তামাক-বিলাসী দ্রব্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে বেশ কিছু আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক-কর বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হওয়ায় স্থানীয় ফলের সুরক্ষায় কাজু বাদাম আমদানির শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে এক লাফে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। এ ছাড়া পাঙাস মাছের ফিলেট আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং উচ্চ মূল্যের দামি হিমায়িত মাছ আমদানিতে নতুন করে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানো হচ্ছে।

যেসব পন্যের দাম বাড়তে পারে
যেসব পন্যের দাম বাড়তে পারে

তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমাতে প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম ৫ থেকে ৭ টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর কাঁচামাল যেমন—সিগারেট পেপার আমদানিতে ৩০০ শতাংশ ও নিকোটিনে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মাদক ও বিলাসী পণ্যের লাগাম টানতে বিদেশি মদের পাশাপাশি দেশীয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মদে প্রতি লিটারে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে, যার ফলে সব ধরনের মদের দাম বাড়বে। এ ছাড়া দেশের আবাসন খাতের অন্যতম অনুষঙ্গ মাইল্ড স্টিল (এমএস রড) এবং এ জাতীয় পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর ও ভ্যাট প্রায় ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে বাজারে রডের দাম বাড়তে পারে।