২০৩০ সালে এমএমএফ পোশাক বাজারের ১২% দখলের সম্ভাবনা
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
- / 113
নীতিগত সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও শিল্প সক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৭৫ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) পোশাক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ। এতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও বৈশ্বিক পোশাক বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই)।
বিএফটিআইয়ের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব পোশাকশিল্প দ্রুত তুলাভিত্তিক পণ্য থেকে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাকের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য নতুন রপ্তানি সুযোগ তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এমএমএফ পোশাক বাজারের আকার প্রায় ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি কৌশলের অংশ হিসেবে এই খাতে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব অর্জনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিএফটিআইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
গবেষণায় বাংলাদেশকে এমএমএফ পোশাক উৎপাদনের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ধাপে ধাপে নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া এমএমএফ কাঁচামালের শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা, বিদেশি বিনিয়োগ অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করা, দেশে সিনথেটিক সুতা ও পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার উৎপাদন বাড়ানো, সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও বাংলাদেশ এখনো তুলাভিত্তিক পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বৈশ্বিক চাহিদা দ্রুত সিনথেটিক ও মিশ্র তন্তুর পোশাকের দিকে সরে যাচ্ছে। ফলে এলডিসি-পরবর্তী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এমএমএফ খাতের সম্প্রসারণ অপরিহার্য।
এছাড়া বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত ঋণ কর্মসূচি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অ্যাকটিভওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের মতো উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।






























