ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আয়নাঘরে ২৯টি কক্ষ, সালাহউদ্দিনও ছিলেন সেখানে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 3

আয়নাঘরে ২৯টি কক্ষ, সালাহউদ্দিনও ছিলেন সেখানে

রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১-এর টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, সেখানে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে আটক রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরে তাকে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

শনিবার (১ আগস্ট) উত্তরায় র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনায় এখনো প্রায় আড়াই শতাধিক নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী এবং সাজেদুল ইসলাম সুমন অন্যতম।

তিনি জানান, এদিন যে গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করা হয়েছে, সেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের একজন ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশিম আরমানকে রাখা হয়েছিল বলে বিভিন্ন বর্ণনা থেকে ধারণা করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কক্ষও পরিদর্শন করা হয়েছে।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাক্ষ্য, ভুক্তভোগীদের বর্ণনা এবং প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও র‍্যাব-১-এর এই টিএফআই সেলের একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরে তাকে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, টিএফআই সেলে মোট ২৯টি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষ কী উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের আদালতে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল টিএফআই সেল পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধিদলে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদীসহ প্রসিকিউশন টিম এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া গুম কমিশনের সদস্য নুর খান লিটন এবং গুমের শিকার সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলিও পরিদর্শনে অংশ নেন।

এর আগে গত ২১ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের আবেদনের পর র‍্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির কথিত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় শনিবার উত্তরার র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত টিএফআই সেল পরিদর্শন করা হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আয়নাঘরে ২৯টি কক্ষ, সালাহউদ্দিনও ছিলেন সেখানে

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১-এর টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, সেখানে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে আটক রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরে তাকে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

শনিবার (১ আগস্ট) উত্তরায় র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনায় এখনো প্রায় আড়াই শতাধিক নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী এবং সাজেদুল ইসলাম সুমন অন্যতম।

তিনি জানান, এদিন যে গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করা হয়েছে, সেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের একজন ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশিম আরমানকে রাখা হয়েছিল বলে বিভিন্ন বর্ণনা থেকে ধারণা করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কক্ষও পরিদর্শন করা হয়েছে।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাক্ষ্য, ভুক্তভোগীদের বর্ণনা এবং প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও র‍্যাব-১-এর এই টিএফআই সেলের একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরে তাকে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, টিএফআই সেলে মোট ২৯টি কক্ষ রয়েছে। এসব কক্ষ কী উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের আদালতে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল টিএফআই সেল পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধিদলে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদীসহ প্রসিকিউশন টিম এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া গুম কমিশনের সদস্য নুর খান লিটন এবং গুমের শিকার সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলিও পরিদর্শনে অংশ নেন।

এর আগে গত ২১ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের আবেদনের পর র‍্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির কথিত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় শনিবার উত্তরার র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত টিএফআই সেল পরিদর্শন করা হয়।