তুরাগে লাশ উদ্ধারের দাবি গুজব: ডিএমপি
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৪১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 22
ঢাকার তুরাগ নদ থেকে একাধিক আওয়ামী লীগ কর্মীর মরদেহ উদ্ধারের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য গুজব বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশ জানিয়েছে, তুরাগ নদে লাশ পাওয়ার এ ধরনের কোনো ঘটনার বিন্দুমাত্র সত্যতা মেলেনি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষায়িত সাইবার ইউনিট কাজ শুরু করেছে।
গতকাল রোববার (২৮ জুন) মিন্টো রোডে ডিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের যুগ্ম কমিশনার ফারুক হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ফারুক হোসেন বলেন, “তুরাগ নদে একাধিক লাশ ভেসে ওঠার দাবিটি একেবারেই বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনো ইউনিট এ ধরনের কোনো ঘটনার সত্যতা পায়নি। এমনকি নদীতে লাশ পাওয়া সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ বা তথ্য স্থানীয় তুরাগ থানাতেও কেউ দায়ের করেনি।”
তিনি আরও বলেন, “একটি বিশেষ মহল থেকে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে যে, ডিএমপির কোনো অভিযানের পর এরা মারা গিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির লক্ষ্যে এ ধরনের গুজব ছড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো তৎপর রয়েছে। খুব শীঘ্রই গুজব রটনাকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের মুখোমুখি করা হবে।”
সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত দলটির সমর্থকদের বিভিন্ন পেজ, গ্রুপ ও আইডি থেকে একটি সুনির্দিষ্ট দাবি তোলা হয়। তাদের দাবি ছিল- মিছিল থেকে দলটির সাতজন কর্মীকে পুলিশ আটক করার পর হত্যা করে লাশ তুরাগ নদে ফেলে দিয়েছে। তবে এই অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে এর আগেই তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছিল পুলিশ সদর দপ্তর।
ডিএমপি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো স্পর্শকাতর ঘটনা যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। যাচাই ছাড়া এ ধরনের ভুয়া সংবাদ বা প্রোপাগান্ডা ছড়ালে সাধারণ জনমানুষের মনে চরম বিভ্রান্তি ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে, যা একটি ফৌজদারি অপরাধ।



































