প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও রোমানা
চরফ্যাশনে খাল পুনঃখননে কাজ শেষে ১ কোটি টাকা কোষাগারে ফেরত
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
- / 4
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আর্থিক শৃঙ্খলার ব্যতিক্রমী উদাহরণ স্থাপন করেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসন। খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত ১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত জমা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ উদ্যোগের নেতৃত্বে থাকা চরফ্যাশনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আফরোজ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে নানা পোস্ট দিচ্ছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’-এর আওতায় সুবল ডাক্তার বাড়ি থেকে সুন্দরী ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সরকারি নির্দেশনা ও কারিগরি মান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। তবে মাঠপর্যায়ে কাজের সময় দেখা যায়, খালের বিভিন্ন অংশে প্রস্থ ও গভীরতা প্রাথমিক প্রাক্কলনের তুলনায় কম প্রয়োজন হওয়ায় পুরো বরাদ্দ ব্যয় না করেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। ফলে মোট ১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা অব্যয়িত থাকে।
পরে সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত জমা দেওয়া হয়। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়ানোর এই পদক্ষেপ স্থানীয় প্রশাসন, সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পুনঃখননের ফলে খালের নাব্যতা ফিরে আসায় স্থানীয় কৃষকরাও এর সুফল পেতে শুরু করেছেন। তাদের মতে, খালে পানি সংরক্ষণ ও প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় সেচব্যবস্থা সহজ হবে এবং বছরে তিন ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় কৃষক মামুন মাঝি বলেন, “আগে খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় বেশি খরচে সেচ দিতে হতো। তবু তিন ফসল আবাদ করা কঠিন ছিল। এখন খাল পুনঃখননের কারণে সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। আর কাজ শেষে সরকারি টাকা ফেরত দিয়ে ইউএনও যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বলেন, দীর্ঘদিন পলি জমে খালটি প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছিল। সরকারের উদ্যোগে পুনঃখননের মাধ্যমে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় না করে অব্যয়িত প্রতিটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন সবসময় আন্তরিক।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন পলি জমে খালটি ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা ছিল। পুনঃখননের ফলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।



































