এলডিসি উত্তরণের আগে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে চায় সরকার
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / 11
এলডিসি থেকে উত্তরণের আগেই রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বহুমুখীকরণ ও খাতভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। লক্ষ্য, তৈরি পোশাকের বাইরেও নতুন খাতে প্রবৃদ্ধি এনে সামগ্রিক রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে নীতিগত সহায়তা বাড়ানো গেলে দেশের রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে মত দিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও খাতভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
বুধবার অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি জানান, তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে আরও পাঁচ থেকে ছয়টি খাতে কার্যকর নীতিসহায়তা দেওয়া সম্ভব হলে রপ্তানি আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি আসতে পারে। পাশাপাশি চামড়া ও পাট খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
সভায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিড এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এতে বলা হয়, সঠিক প্রস্তুতি ছাড়া প্রতিযোগিতার চাপ বাড়বে এবং বিভিন্ন খাতে রপ্তানি হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউরোপীয় ইউনিয়ন–এর জিএসপি প্লাস সুবিধা মিললেও বাজারে উচ্চ অংশীদারিত্বের কারণে শুল্ক সুবিধা সীমিত হতে পারে। একই সঙ্গে চামড়াজাত ও তৈরি পোশাক খাত নতুন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে।
গবেষণায় সতর্ক করা হয়, হোম টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতে ভারত, ইউরোপ ও চীনের বাজারে রপ্তানি হ্রাস পেতে পারে, যা ক্ষেত্রবিশেষে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।
ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের জন্য আরও কিছু সময় পেতে পারে, তবে সেই সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো না হলে কাঙ্ক্ষিত প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে না।
অন্যদিকে ড. এম আবু ইউসুফ জানান, কৃষি ও উৎপাদন খাতে এক হাজারের বেশি পণ্য ইতোমধ্যে বড় পরিসরে রপ্তানি হচ্ছে। এসব খাতে বাধা দূর করা এবং নতুন সহায়তা কাঠামো নিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন।
সভায় আরও বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি আগামী প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে পাট খাত উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে চীন।





































