ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে যেসব বিষয়ে চুক্তি হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / 223

চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যেই এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সামার দাভোস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তিনি বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় সফরের মূল কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক, চুক্তি, কর্মপরিকল্পনা ও প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা।

সফরে চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে উৎপাদন শিল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। বিদ্যুৎ, পরিবহন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং চলমান বড় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্মার্ট অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২২ থেকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে। তবে বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে রয়েছে বাংলাদেশ। ফলে তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিনিয়োগ প্রচার। আগামী ২৫ জুন আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ প্রধানমন্ত্রী দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরবেন। এতে বিপুলসংখ্যক চীনা উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন। বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হলে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে যেসব বিষয়ে চুক্তি হতে পারে

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যেই এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সামার দাভোস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তিনি বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় সফরের মূল কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক, চুক্তি, কর্মপরিকল্পনা ও প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা।

সফরে চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে উৎপাদন শিল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। বিদ্যুৎ, পরিবহন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং চলমান বড় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্মার্ট অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২২ থেকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে। তবে বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে রয়েছে বাংলাদেশ। ফলে তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিনিয়োগ প্রচার। আগামী ২৫ জুন আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ প্রধানমন্ত্রী দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরবেন। এতে বিপুলসংখ্যক চীনা উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন। বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হলে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে।