বৃষ্টি-ঢলে বাড়ছে নদীর পানি, কয়েক জেলায় বন্যা ও ভাঙনের শঙ্কা
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / 8
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুনামগঞ্জ, গাইবান্ধা ও টেকনাফে জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। যদিও তাৎক্ষণিক বড় বন্যার আশঙ্কা নেই, তবুও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দেশজুড়ে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং উজানের পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। কোথাও নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে, আবার কোথাও জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সুনামগঞ্জ, গাইবান্ধা ও কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায়।
সুনামগঞ্জে উজানের ঢলের কারণে নদী ও হাওরাঞ্চলে পানির পরিমাণ বাড়লেও গত কয়েক দিনের তুলনায় ঢলের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক থেকেও পানি নেমে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে।
এদিকে তাহিরপুর উপজেলার বড়দল পুরানহাটি এলাকায় খালের পাড় ধসে একটি ঘর ভেঙে পড়লে রুবেল মিয়া (৩০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বের হতে পারলেও তিনি ঘরের ভেতরে আটকা পড়ে যান। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে গত এক সপ্তাহে দেড় শতাধিক বসতভিটা ও চার শতাধিক একর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। ভাঙন ঠেকাতে ফেলা জিও ব্যাগ ও জিও টিউব কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলো নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার চরাঞ্চল কৃষি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিবছর নদীভাঙনে বিপুল পরিমাণ জমি হারিয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য নদী খনন ও নদীশাসন প্রয়োজন।
তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় নৌকাই এখন স্থানীয় মানুষের প্রধান ভরসা।
এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফে টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করছে। হ্নীলা, হোয়াইক্যং, বাহারছড়া, সদর ইউনিয়ন ও শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি জমি ও চিংড়ি ঘের।
সোমবার সকালে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে উত্তাল সাগরে শাহপরীর দ্বীপের একটি মাছধরা ট্রলার ডুবে যায়। তবে মাঝিমাল্লারা সাঁতরে তীরে ফিরতে সক্ষম হন। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ ও জালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভারী বর্ষণে একটি নির্মাণাধীন সেতুর অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, উজানে বৃষ্টি এবং মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আগামী কয়েক দিন নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি অব্যাহত থাকবে।




































