৯ খাতে সহযোগিতায় একমত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
- / 10
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানিসহ ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা জোরদারে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। এ লক্ষ্যে ৩৩ দফার যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সফরকালে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা, জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা-নিরাপত্তাসহ ৯টি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।
সোমবার (২২ জুন) কুয়ালালামপুরের শাংগ্রিলা হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
মাহদী আমিন জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। প্রায় ১৮ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন তিনি।
দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ও প্রতিনিধিদল পর্যায়ের বৈঠকে রাজনৈতিক সহযোগিতা, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের পর সহযোগিতা বাড়াতে ৩৩ দফার যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রযুক্তি পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানো এবং হালাল শিল্পের সনদ, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষ জনবল উন্নয়নে সহযোগিতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শ্রমবাজারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়াকে দ্রুত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি কম খরচে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশিদের বৈধতা প্রদান অথবা নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
জ্বালানি খাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা।
সফরকালে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সন্ত্রাস দমনসংক্রান্ত দুটি নোট বিনিময় করা হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার কয়েকটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।



































