কলকাতায় আগুনে প্রাণ গেল ৯ বাংলাদেশির
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৪:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 11
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয় বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিনগত রাতের দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের তিনতলা শিখা ইন হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এ সময় অধিকাংশ আবাসিক ঘুমিয়ে ছিলেন।
রাত ২টা ৭ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিস। পরে নিউমার্কেট থানার পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন। হোটেলটি সরু গলির মধ্যে হওয়ায় দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলের ভেতরে প্রবেশে সমস্যায় পড়ে। প্রথমে বাইরে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হোটেলের ভেতরে ঢুকে উদ্ধার অভিযান চালান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আগুন লাগার সময় বাইরে থেকে তেমন শিখা দেখা যাচ্ছিল না। তবে হোটেলের ভেতর দ্রুত ধোঁয়ায় ভরে যায়। আতঙ্কিত আবাসিকরা বের হওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। হোটেলের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথও ছিল বেশ সংকীর্ণ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের শরীরে বড় ধরনের পোড়া বা ঝলসে যাওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিহতরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। আহত ছয়জনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে, কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠের একটি হোটেলেও ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।


































