ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান

দুদকের সব কমিশনই মেয়াদ পূরণে ব্যর্থ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:১১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 10

দুদক চেয়ারম্যান

২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত সাতটি কমিশন দায়িত্ব পালন করেছে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা কারণে সব কমিশন পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। সর্বশেষ কমিশনও মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক সচিব ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১) অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুদকের চেয়ারম্যান এবং একই আইনের বিধান অনুযায়ী ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগের সঙ্গে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও পদমর্যাদাও নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের সমান এবং দুই কমিশনারের পদমর্যাদা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমতুল্য করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার বিকেলে নতুন দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে গঠিত সার্চ কমিটি তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন। এর আগে দীর্ঘ সময় হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৫৯ সালের ১ মার্চ জন্ম নেওয়া বিচারপতি আসাদুজ্জামান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। পরে ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে স্থায়ী হন। পরে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।

নতুন কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব। তিনি ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন বলে জানা গেছে।

অপর কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক কর কমিশনার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার পদত্যাগ করার পর নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। পরে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়।

সার্চ কমিটি ছয় দফা বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই এবং যোগ্যতা পর্যালোচনা করে। এরপর চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং কমিশনার হিসেবে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার নাম চূড়ান্ত করা হয়।

চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদ শূন্য থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুদকের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন এমন অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে ছিল। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব কার্যক্রমে গতি ফেরার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান

দুদকের সব কমিশনই মেয়াদ পূরণে ব্যর্থ

সর্বশেষ আপডেট ১২:১১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত সাতটি কমিশন দায়িত্ব পালন করেছে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা কারণে সব কমিশন পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। সর্বশেষ কমিশনও মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক সচিব ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১) অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুদকের চেয়ারম্যান এবং একই আইনের বিধান অনুযায়ী ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগের সঙ্গে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও পদমর্যাদাও নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের সমান এবং দুই কমিশনারের পদমর্যাদা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমতুল্য করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার বিকেলে নতুন দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে গঠিত সার্চ কমিটি তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন। এর আগে দীর্ঘ সময় হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৫৯ সালের ১ মার্চ জন্ম নেওয়া বিচারপতি আসাদুজ্জামান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। পরে ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে স্থায়ী হন। পরে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।

নতুন কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব। তিনি ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন বলে জানা গেছে।

অপর কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক কর কমিশনার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার পদত্যাগ করার পর নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। পরে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়।

সার্চ কমিটি ছয় দফা বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই এবং যোগ্যতা পর্যালোচনা করে। এরপর চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং কমিশনার হিসেবে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার নাম চূড়ান্ত করা হয়।

চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদ শূন্য থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুদকের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন এমন অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে ছিল। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব কার্যক্রমে গতি ফেরার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।