দাবি রুহুল কবির রিজভীর
শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের অবস্থান দ্বিমুখী
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 55
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় ভারতের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার দাবি, এ ঘটনায় ভারত দ্বিমুখী নীতির পরিচয় দিয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ‘গ্যালারি হামিদুজ্জামান’ ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে একটি আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি বেসরকারি উদ্যোগে হওয়ায় তাদের কিছু করার ছিল না। তবে এই ব্যাখ্যাকে তিনি ভারতের ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বা দ্বিমুখী অবস্থানের প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, অতীতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনি পরামর্শ দিতে ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইল বাংলাদেশে আসতে চাইলে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তিনি দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলেও ভারত সরকার অনুমতি দেয়নি। অথচ এখন শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
রিজভীর ভাষ্য, একসময় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি ভারতকে এমন কিছু দিয়েছেন, যা দেশটি দীর্ঘদিন মনে রাখবে। ভারতের বর্তমান অবস্থান সেই বক্তব্যেরই প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ যে পরিবর্তন এনেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত সেই গণরায় ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। তার দাবি, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। এ সময় ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে।
শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন, অর্থ পাচার এবং স্বজনদের বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টার কারণে ইতিহাসে তার শাসনামল নেতিবাচকভাবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

































